google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: গাজার হাসপাতালে শয্যাশায়ী অবস্থায় কুরআন হিফজ সম্পন্ন করলেন রিম আবু উদ্দাহ
ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকেও পবিত্র কুরআনের পূর্ণ হিফজ সম্পন্ন করেছেন ফিলিস্তিনি কন্যা রিম আবু উদ্দাহ। গাজার খান ইউনিসের এক হাসপাতালে এই বিরল অর্জন তাকে অনন্য সাহস, ঈমানি দৃঢ়তা ও অনুপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গুরুতর শারীরিক যন্ত্রণা ও শেলবিদ্ধ আঘাত সত্ত্বেও রিমের অবিচল অধ্যবসায় তাকে কুরআনের পথে জয়ী করেছে। তিনি জানান, “আমি আমার শহীদ মায়ের আত্মার মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছি। যদিও ক্লান্তি ও ব্যথা আমাকে প্রায় ভেঙে ফেলেছিল, তবুও আল্লাহর অনুগ্রহে তা শেষ করতে পেরেছি।”
গত বছরের ২৪ আগস্ট মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে হিফজ সম্পন্ন করার ইচ্ছা ছিল রিমের। কিন্তু তার দুই দিন আগেই বিমান হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে শেলবিদ্ধ হয়ে ও পেট জখম হওয়া সত্ত্বেও প্রায় এক মাসের চিকিৎসা চলাকালে তিনি হাসপাতালে থেকেই কুরআন মুখস্থ করেন।
রিমের বোন সাফা আবু উদ্দাহ জানান, শয্যায় শুয়েই তিনি তেলাওয়াত করতেন এবং চিকিৎসকরা তার ধৈর্য ও মানসিক শক্তি দেখে বিস্মিত হতেন। রিম তার বোনকেই জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেছেন।
নিজের এই অর্জনকে তিনি হামলায় নিহত মায়ের আত্মার প্রতি উৎসর্গ করেছেন। গাজা শহরের হাবিব মুহাম্মদ সেন্টার রিমের এই ঈমানি দৃঢ়তা ও ধৈর্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে।
রিমের ভাষায়, “এই ভয়াবহ যুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে কোরআনই ছিল আমার ধৈর্য ও স্থিতিশীলতার প্রধান উৎস।”
এই অর্জন গাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও ঈমান, দৃঢ়তা ও শিক্ষার প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।