google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিশুদের টাইফয়েড টিকা নেওয়া কেন এত জরুরি

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 15, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: শিশুদের-টাইফয়েড-টিকা-নেওয়া-কেন-এত-জরুরি ছবির ক্যাপশন: শিশুদের-টাইফয়েড-টিকা-নেওয়া-কেন-এত-জরুরি
ad728

সালমোনেলা টাইফি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টাইফয়েড জ্বর হয়, যা মারাত্মক ও জীবনঘাতী সংক্রমণ হতে পারে। এটি সাধারণত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোয়, বিশেষ করে বাংলাদেশে, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা
শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয় এবং তাদের মধ্যে জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ, পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের নিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।


💉 টাইফয়েড টিকা কীভাবে কাজ করে

টাইফয়েড টিকা শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করে, যাতে সংক্রমণ হলে শরীর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশে শিশুদের জন্য দেওয়া হচ্ছে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV)
👉 এটি মাংসপেশিতে ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করা হয়
👉 এটি একধরনের সাব–ইউনিট টিকা, যেখানে ব্যাকটেরিয়ার একটি অংশকে ক্যারিয়ার প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত করে তৈরি করা হয়।
👉 এই আধুনিক টিকাটি আগের টিকার তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করে।


টাইফয়েড টিকা নেওয়ার গুরুত্ব

১. টাইফয়েড জ্বর ও তার জটিলতা (যেমন অন্ত্র ফেটে যাওয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ) প্রতিরোধ করে।
২. অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী টাইফয়েড ছড়ানো রোধে সাহায্য করে।
৩. বাংলাদেশে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু ও কিশোররা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়, তাই এই বয়সে টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।


🇧🇩 বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৫ কোটি শিশু-কিশোরকে বিনা মূল্যে এক ডোজ TCV টিকা দেওয়া হচ্ছে।
👉 টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) স্বীকৃত ও সুপারিশকৃত।
👉 এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পরীক্ষিত টিকা, কোনো ট্রায়াল নয়।


👶 কারা টিকা নেবে

  • ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সব শিশু ও কিশোর।

  • ১৫ বছরের বেশি বয়সীরাও চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা নিতে পারেন।


🚫 কারা টিকা নিতে পারবে না

  • যাদের বর্তমানে ১০০°F বা তার বেশি জ্বর আছে।

  • পূর্বে টিকা নেওয়ার পর মারাত্মক অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

  • অন্তঃসত্ত্বা বা স্তন্যদানকারী মা।

  • ৯ মাসের কম বয়সী শিশু।


⚠️ সতর্কতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অনেক অভিভাবক টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে চিন্তিত থাকেন, কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করেছেন যে, এই টিকা পুরোপুরি নিরাপদ
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শিশু এটি গ্রহণ করেছে, এবং কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই
টিকা নেওয়ার পর কিছু হালকা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে:

  • টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যথা, লালচে ভাব বা হালকা ফোলা,

  • অল্প জ্বর, মাথাব্যথা, বা ক্লান্তি।
    এসব প্রতিক্রিয়া সাময়িক এবং সাধারণত এক-দুই দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়


🧠 বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ডা. কাকলী হালদার বলেন,

“টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকা সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায়। সময়মতো টিকা নিলে শিশুরা মারাত্মক সংক্রমণ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।”



নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ