google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ১৯৭১: স্বাধীনতার ঘোষণা, জনযুদ্ধ ও বাংলাদেশের মুক্তি
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মূলত ১৯৭১ সালের ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। তবে এই সংগ্রামের বীজ বপন হয়েছিল আরও আগে। রাজনৈতিক দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের পর স্বাধীনতার ঘোষণা আসে, জনযুদ্ধ শুরু হয় এবং মানুষের বিজয় অর্জিত হয়।
স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে অঙ্গীভূত না থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ শাসন পরবর্তী পাকিস্তান রাষ্ট্রের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পার্থক্য উপেক্ষিত হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তান বাংলার ওপর নানা চাপ প্রয়োগ করে, যার মধ্যে ছিল উর্দু ভাষা চাপানো। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন, ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন—এসবই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করে।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে মুক্তির সংগ্রাম ঘোষণা করেন, যদিও এটি আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল না। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র মানুষের ওপর গণহত্যা চালায়। এরপরই স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়।
‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানি সেনারা ২৬ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে আটক করে। এরপর চট্টগ্রামের ৮ইবি ও ইপিআর বাহিনী স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২৬-২৭ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিবাহিনী গঠন শুরু হয়।
স্বাধীনতার ঘোষণার সঠিক সময় ও কর্তৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাঙালির সংগ্রাম আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির পথে অগ্রসর হয়।
তথ্যসূত্র:
১. মূলধারা ’৭১: মঈদুল হাসান
২. আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর: আবুল মনসুর আহমদ
৩. উইটনেস টু সারেন্ডার: ব্রিগেডিয়ার সিদ্দিক সালিক
৪. বাংলাদেশ: স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতা: মওদুদ আহমদ
৫. বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (তৃতীয় খণ্ড/২০০৪), মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়