google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: পাকিস্তান–আফগানিস্তান-উত্তেজনা:-ডুরান্ড-লাইন-আবার-আলোচনায়-কেন
এক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর কাতারে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল। আফগান তালেবান নেতারা বারবার বলছেন, ডুরান্ড লাইন একটি ‘কাল্পনিক সীমান্ত’, যার বৈধতা তাঁরা মানেন না।
দোহায় যুদ্ধবিরতি সইয়ের পর আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে এই সীমান্তরেখা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়। তিনি বলেন, “ডুরান্ড লাইন কোনো বৈধ সীমান্ত নয়”—যদিও বিষয়টি আলোচনায় ছিল না, তাঁর ভাষা পাকিস্তানের কাছে একটি উসকানি হিসেবে ধরা হয়েছে।
১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ শাসক ও আফগান সম্রাট আবদুর রহমানের মধ্যে হওয়া চুক্তির মাধ্যমে জন্ম নেয় ডুরান্ড লাইন, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। এটি খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান অতিক্রম করে। পাকিস্তান স্বাধীনতার পর এটিকে পশ্চিম সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
কিন্তু কোনো আফগান সরকারই আজ পর্যন্ত এ সীমান্তকে বৈধ আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
বর্তমান তালেবান প্রশাসন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মকভাবে ডুরান্ড লাইনের বৈধতাকে অস্বীকার করছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতে এবং আন্তসীমান্ত জঙ্গিগোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ থেকে দৃষ্টি সরাতে তারা “আফগান জাতীয়তাবাদ” উসকে দিচ্ছে।
দোহা বৈঠকের পর আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুবের ভাষ্য থেকেও বোঝা যায়, কাবুল কোনো সমঝোতায় রাজি নয়।
একসময় তালেবান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর সময় পাকিস্তানের মাটিতেই অবস্থান করেছিল। তখন অনেকের ধারণা ছিল, তালেবান পাকিস্তানের প্রভাবে। কিন্তু বাস্তবে দুই পক্ষই একে অপরকে নিজ নিজ স্বার্থে ব্যবহার করেছে—সম্পর্কটি কখনোই বিশ্বাসের ওপর গড়ে ওঠেনি।
বর্তমানে সেই সম্পর্ক প্রকাশ্য বৈরিতায় রূপ নিয়েছে। তালেবান সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে জঙ্গি হামলা ব্যাপক বেড়েছে, নিহত হয়েছেন শত শত পাকিস্তানি নিরাপত্তাকর্মী।
গত সপ্তাহের সংঘর্ষে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহরে বোমাবর্ষণ করেছে। পাকিস্তানের দাবি, এসব হামলা ছিল সীমান্তপারের সশস্ত্র উসকানির প্রতিশোধ।
যুদ্ধবিরতি সইয়ের পরও তালেবান এখনো তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে বলে ইঙ্গিত দেয়নি। কারণ, তারা টিটিপিকে “মুজাহিদ ভাই” হিসেবে দেখে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে থাকা তালেবান সরকার জনসমর্থন টানতে পাখতুন অধ্যুষিত এলাকায় জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দিতে চাইছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকারের আফগান শরণার্থী বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই সিদ্ধান্ত যেমন মানবাধিকারবিরোধী, তেমনি এটি দুই দেশের জনরোষ ও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
পাকিস্তানের ক্ষোভ কিছুটা যৌক্তিক হলেও সংযম ও সংলাপই হতে পারে বাস্তবসম্মত সমাধান।
যুদ্ধবিরতি ও আলোচনায় বসার পদক্ষেপ ছিল উভয় পক্ষের বিচক্ষণতা—কারণ, এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে দুই দেশের কোটি মানুষের জীবনে।
🗝️ সারাংশ:
ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান–আফগানিস্তান সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত। যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হলেও সীমান্ত ইস্যু ও জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে অনাস্থা এখনো গভীর।