google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ঘাড়ের ব্যথার মূল কারণ ও করণীয়
ঘাড়ের ব্যথা অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
প্রথমত, ডিস্ক প্রোলাপ্স বা হার্নিয়েশন—এ অবস্থায় হাড়ের মাঝখানের ডিস্ক ফুলে গিয়ে বা ছিঁড়ে স্নায়ুতে চাপ ফেলে, ফলে ব্যথা সৃষ্টি হয়।
দ্বিতীয়ত, হাড়ের স্পার বা অস্টিওফাইট। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ধারালো অংশ (স্পার) গজায়, যা স্নায়ু চেপে ধরে ব্যথা সৃষ্টি করে।
তৃতীয়ত, আঘাতজনিত পরিবর্তন। দুর্ঘটনা বা ট্রমার ফলে স্নায়ুতে চাপ পড়তে পারে।
চতুর্থত, খারাপ ভঙ্গি। দীর্ঘ সময় নিচু হয়ে মুঠোফোন দেখা বা একটানা ডেস্কে বসে কাজ করাও ঘাড়ে চাপ বাড়ায়।
এই ব্যথার অন্যতম উপসর্গ হলো ঘাড় থেকে কাঁধ হয়ে হাত ও আঙুল পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে যাওয়া। অনেক সময় ঝিনঝিনে অনুভূতি, অবশ ভাব, হাত বা বাহুর দুর্বলতা দেখা দেয়। ঘাড় নড়াচড়া করলে ব্যথা বেড়ে যেতে পারে এবং হাতের গ্রিপও দুর্বল হতে পারে।
সম্পূর্ণ বিশ্রাম না নিয়ে পরিমিত কাজ চালিয়ে যেতে হবে, তবে ভারী কাজ ও অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলতে হবে।
গরম বা ঠান্ডা সেঁক নিতে পারেন।
ব্যথা বেশি হলে সাময়িকভাবে সারভাইক্যাল কলার ব্যবহার করা যেতে পারে।
টেনস (Transcutaneous Electrical Nerve Stimulation) ও আইএফটি (Interferential Therapy) ব্যথা উপশমে কার্যকর।
থেরাপিউটিক আলট্রাসাউন্ড প্রদাহ ও পেশির সংকোচন কমাতে সহায়তা করে।
চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ও মাংসপেশি শিথিলকারী ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।
ব্যথা কমে এলে ঘাড়ের নড়াচড়া ফিরিয়ে আনতে মোশন এক্সারসাইজ এবং পেশি শক্তিশালী করতে আইসোমেট্রিক নেক এক্সারসাইজ করা যেতে পারে।
মুঠোফোন বা ট্যাব চোখের সমান উচ্চতায় ধরে ব্যবহার করুন।
কম্পিউটার মনিটর চোখের সমান্তরালে রাখুন।
উঁচু বালিশ ব্যবহার করবেন না; মাঝারি উচ্চতার শক্ত বালিশে ঘুমান।
ভারী জিনিস দুই হাতে ভাগ করে তুলুন।
প্রতি ৩০ মিনিট পরপর কাজের বিরতি নিয়ে একটু হাঁটুন।
গাড়ি চালানোর সময় ঘাড়ের পেছনে ছোট কুশন ব্যবহার করতে পারেন।
সঠিক ভঙ্গি, নিয়মিত ব্যায়াম ও সচেতনতা বজায় রাখলে ঘাড়ের ব্যথা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।