google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামে হঠাৎ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, এক মাসে বৃদ্ধি ৩০ টাকা পর্যন্ত
চট্টগ্রামের বাজারে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। গত অক্টোবর মাসজুড়ে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫ থেকে ১২০ টাকায়, অর্থাৎ এক মাসে বেড়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর পেঁয়াজের আমদানি খুবই সীমিত, আর দেশি পেঁয়াজের মৌসুম প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তাই বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে। তাঁদের ধারণা, আগামী ডিসেম্বরের দিকে বাজারে আগাম পেঁয়াজ (মুড়িকাটা) আসা শুরু হলে দাম কিছুটা কমে আসবে।
চট্টগ্রামের পেঁয়াজ সরবরাহ হয় মূলত দেশের সবচেয়ে বড় ভোগ্যপণ্যের আড়ত খাতুনগঞ্জ থেকে। সেখানে বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯২ থেকে ১০০ টাকায়, যেখানে এক মাস আগেও দাম ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। এখন বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ প্রায় নেই বললেই চলে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিঞা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন,
“বাজারে কোনো আমদানি পেঁয়াজ নেই, দেশি পেঁয়াজ দিয়েই বাজার চলছে। দাম এ মাসে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। আমদানির অনুমতি পেলে দাম কিছুটা কমবে, না হলে আগাম পেঁয়াজ বাজারে এলে স্বাভাবিক হবে।”
চট্টগ্রামের বাজার মূলত আমদানি পেঁয়াজনির্ভর, বিশেষ করে ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২৫–২৬) জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে আমদানি হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার টন পেঁয়াজ, যেখানে গত বছর একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার টন।
অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার আমদানি কমেছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এটি দেশের কৃষকদের জন্য ইতিবাচক—কারণ তাঁরা এখন ভালো দাম পাচ্ছেন এবং বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে।
দেশে আসা পেঁয়াজের ৯৯ শতাংশই ভারতীয়। গত বছর ভারতে দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে উৎপাদন বাড়লে সরকার আমদানি অনুমতি (আইপি) বন্ধ রাখে। তবে এপ্রিল ও আগস্টে দাম বাড়লে অল্প সময়ের জন্য আইপি দেওয়া হয়েছিল।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে চট্টগ্রামে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল ৯১ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন ছিল ৬৭১ টন। চলতি অর্থবছরে আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ হেক্টর, আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৯২ টন।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চট্টগ্রামের উৎপাদন স্থানীয় চাহিদার বড় অংশ পূরণ করতে পারবে বলে আশাবাদী কৃষি কর্মকর্তারা।
পেঁয়াজের হঠাৎ দামবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ৫–১০ টাকার পরিবর্তে এক লাফে ২০–৩০ টাকা বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক।
চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আহসান খালেদ বলেন,
“এক মাস হয়তো দাম একটু বেশি থাকবে। কৃষকেরা এবার ভালো দাম পেয়েছেন, এটা ইতিবাচক দিক। আমদানির খবর এলেই দাম কিছুটা কমে আসবে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
সংক্ষেপে:
🔸 অক্টোবরের তুলনায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা পর্যন্ত
🔸 আমদানি কমেছে প্রায় ৯৫%
🔸 স্থানীয় উৎপাদন বাড়ছে, ডিসেম্বর থেকে আগাম পেঁয়াজ আসবে বাজারে
🔸 ক্রেতাদের অভিযোগ—দামের হঠাৎ উর্ধ্বগতি অস্বাভাবিক