google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নবজাতক রেখে গেল স্বজনেরা, দত্তক নিতে ভিড়
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বজনেরা। নবজাতকের পাশে রাখা একটি বাজারের ব্যাগে পাওয়া গেছে এক হৃদয়বিদারক চিরকুট, যাতে লেখা, “আমি মুসলিম। আমি একজন হতোভাগি। পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম। দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন।”
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, তবে শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে নবজাতকটিকে দত্তক নিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অনেক মানুষ ভিড় করেন। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, এবং চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সে শারীরিকভাবে সুস্থ আছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে নবজাতকটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি রেজিস্ট্রারে ঠিকানা লেখা হয়েছে—ইনছুয়ারা, শাহিনুর, আলাদিপুর, ফুলবাড়ী।
নবজাতকের পাশে রাখা ব্যাগে ওষুধ, ডায়াপার, জামাকাপড়সহ একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যাতে লেখা ছিল:
“আমি মুসলিম। আমি একজন হতোভাগি। পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম। দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন। বাচ্চার জন্মতারিখ ৪ নভেম্বর ২০২৫ (মঙ্গলবার)। এগুলো সব বাচ্চার ওষুধ।”
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক গোলাম আহাদ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পঞ্চাশোর্ধ্ব এক দম্পতি শিশুটিকে নিয়ে এসে ভর্তি করতে চান। তাঁরা নিজেদের পরিচয় দেন শিশুটির নানা-নানী হিসেবে। চিকিৎসক তাঁদের শিশুটির মায়ের খোঁজ করলে তাঁরা বলেন, মা নিচে আছেন। কিন্তু মা–সহ ফিরে আসার পরিবর্তে তাঁরা শিশুটিকে রেখে চলে যান।
কিছুক্ষণ পর শিশু ওয়ার্ডের বাইরে বেডে নবজাতকটিকে একা পড়ে থাকতে দেখে অন্যরা বিষয়টি জানান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির মা বা স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
গোলাম আহাদ বলেন, “শিশুটি স্বাভাবিক সময়ের কিছু আগেই জন্মেছে। বর্তমানে সে সুস্থ আছে। ফটোথেরাপি দেওয়া হয়েছে এবং ওয়ার্মারে রাখা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে একটি ব্যাগে করে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই অনেক মানুষ শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আইন ও নিয়ম অনুযায়ী শিশুটির ভবিষ্যৎ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।