google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ধানখেতে কোটি টাকার মাছ: সন্দ্বীপের সবুজচরে নতুন সোনালী অধ্যায়
সবুজ ধানখেতজুড়ে টলটলে পানি। তার মাঝেই খেতের আইলে চাঁই পেতে মাছ ধরছেন চাষিরা। কোরাল, চিংড়ি, চিরিংয়ের মতো সামুদ্রিক মাছেই ভরে যাচ্ছে ঝুড়ি। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সবুজচরে এই দৃশ্য এখন প্রতিদিনের।
সরকারি নিষেধাজ্ঞায় সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও এখানকার ধানখেত থেকেই প্রতিদিন আহরিত হচ্ছে প্রায় এক কোটি টাকার মাছ। স্থানীয় চাষিরা জানান, ধান নয়—মূলত মাছের জন্যই তাঁরা ধান চাষ করে থাকেন, কারণ এতে কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হয়।
চাষিদের মতে, শীতকালে সবুজচর থাকে শুষ্ক। চৈত্র মাসের শেষ দিকে জোয়ারের পানিতে চর প্লাবিত হয়, সঙ্গে আসে সামুদ্রিক মাছ। এসব মাছ চরে ডিম দেয় এবং বর্ষার শুরুতেই ফুটে বাচ্চা বের হয়। আমন ধান বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বড় হতে থাকে মাছও। বর্ষা শেষে শুরু হয় মাছ ধরা, আর বিক্রির হাট বসে সন্দ্বীপের দীর্ঘাপাড়ের একতা বাঁধ বাজারে।
ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চলে জমজমাট বেচাকেনা। হাজারো মানুষ পরিবার ও পাইকারি ব্যবসার জন্য মাছ কিনতে ভিড় জমান বাজারে।
সবুজচর মূলত ‘রাজাশাইল’ ধান উৎপাদনের জন্য খ্যাত। প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সাড়ে তিন হাজার চাষি ধান ও মাছ চাষে যুক্ত। প্রতি দিন ২০ থেকে ২৫ টন মাছ বিক্রি হয়; চিরিং মাছ কেজি ৪০০–৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ টাকা এবং কোরাল ৬০০–৮০০ টাকায় বিক্রি হয়।
চাষি ও দোকানিদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন অন্তত এক কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়। স্থানীয় চাষি জামাল উদ্দিন জানান, তাঁর তিন হেক্টর জমিতে আমন ধানে খরচ হয় দুই লাখ টাকা, যা ধান ও খড় বিক্রি করেই উঠে যায়। আর মাছ বিক্রিই তাঁর পুরো লাভ।
সবুজচরের মাছ নোয়াখালী হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। প্রতিদিন ট্রলারে করে শত শত মণ মাছ চলে যায় দেশের পাইকারি বাজারে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় চাষিরা আরও বেশি লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানান, “ধান ও মাছের যৌথ চাষে কৃষকদের আরও লাভবান করতে সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ জরুরি।”