google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: সুমুদ: ফিলিস্তিনিদের জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠা দৃঢ়তা
আরবি শব্দ ‘সুমুদ’ অর্থ দৃঢ়তা, অটল থাকা বা অধ্যবসায়। তবে ফিলিস্তিনিদের জীবনে এটি শুধু শব্দ নয়, বরং টিকে থাকা, সংগ্রাম এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। প্রায় আট দশক ধরে দখলদারি ও আগ্রাসনের মুখে থেকেও ফিলিস্তিনিরা নিজেদের সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা ও আত্মপরিচয় রক্ষার যে মানসিকতা দেখিয়েছেন, সেটিই সুমুদ।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় অন্তত ৫৩০টি ফিলিস্তিনি গ্রাম ধ্বংস, ১৩ হাজার মানুষ নিহত এবং সাড়ে ৭ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়। এ ঘটনাকে ফিলিস্তিনিরা নাকবা (মহাবিপর্যয়) বলে অভিহিত করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে (নাকসা) আরও তিন লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন। এ সময় থেকেই ‘সুমুদ’ ধারণাটি জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।
অটল স্থিরতা (আস-সুমুদস সাকিনু): ঘরবাড়ি ধ্বংস হলেও পুনর্নির্মাণ, জলপাইগাছ উপড়ে ফেললেও আবার রোপণ।
প্রতিরোধমূলক সুমুদ (আস-সুমুদুল মুকায়িমু): শরণার্থীশিবির রক্ষা ও সশস্ত্র সংগ্রাম।
দৈনন্দিন সুমুদ: স্কুলে যাওয়া, বাজার করা, তল্লাশিচৌকিতে ধৈর্য ধরা, গান গাওয়া, লেখা বা প্রতিবেশীর সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা।
আন্তর্জাতিক সংহতি: প্রবাসীদের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ, বিডিএস আন্দোলন সমর্থন, ‘কেফিয়াহ’ রুমাল পরা ইত্যাদি।
হাজার বছরের পুরোনো জলপাইগাছ ফিলিস্তিনি জীবনে শুধু অর্থনৈতিক ফসল নয়, বরং প্রতিরোধ ও টিকে থাকার প্রতীক। দখলদার ইসরায়েলি সেনারা এসব গাছ ধ্বংস করলেও ফিলিস্তিনিরা নতুন করে তা রোপণ করে সুমুদের বার্তা দেন। মাহমুদ দারবিশের কবিতায়ও বারবার জলপাইগাছ উঠে এসেছে সুমুদের প্রতীক হিসেবে।
এডওয়ার্ড ওয়াদি সাইদ লিখেছেন, সন্তান জন্ম দেওয়া, ঘরবাড়ি গড়া থেকে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া ও লড়াই করা পর্যন্ত সবই সুমুদ।
রাজা শেহাদেহ সুমুদকে দৈনন্দিন প্রতিরোধ হিসেবে দেখিয়েছেন, যা তিনি “তৃতীয় পথ” নামে পরিচিত করেছেন।
সাম্প্রতিক সংকলন ‘সুমুদ: আ প্যালেস্টিনিয়ান রিডার’ বলছে, এটি কেবল প্রতিরোধ নয়, বরং জীবনযাপনের এক ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতি।
গাজা অভিমুখী মানবিক ত্রাণবাহী বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা-র মুখপাত্র সাইফ আবুকেশেক বলেন, “চরম বৈরী পরিস্থিতিতেও ফিলিস্তিনিরা যে টিকে থাকার মানসিকতা দেখাচ্ছেন, সেটাই সুমুদের প্রকৃত অর্থ।”