google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সংসদ ভবনের নকশাকার লুই আই কান ও স্থপতি সামসুল ওয়ারেসের স্থাপত্যভাবনা

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 2, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশের সংসদ ভবনের নকশাকার লুই আই কান ও স্থপতি সামসুল ওয়ারেসের স্থাপত্যভাবনা ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশের সংসদ ভবনের নকশাকার লুই আই কান ও স্থপতি সামসুল ওয়ারেসের স্থাপত্যভাবনা
ad728

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি এক অনন্য স্থাপত্যকীর্তি, যা সারা পৃথিবীতে নন্দিত। আমেরিকান স্থপতি লুই আই কান (১৯০১–১৯৭৪) এর নকশা করা এই ভবন স্থাপত্য জগতে এক মহৎ সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত। তাঁর ছেলে নাথানিয়েল কান পিতার স্মৃতি ও সৃষ্টিকে ঘিরে নির্মাণ করেছিলেন বিখ্যাত প্রামাণ্যচিত্র মাই আর্কিটেক্ট, যা অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল।

নাথানিয়েল ছোটবেলায় একবারই বাবাকে দেখেছিলেন। পরবর্তীতে বড় হয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর বাবা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থপতি। পিতাকে জানার এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাঁকে পৃথিবীর নানা স্থানে লুই কানের স্থাপত্যকীর্তির সন্ধানে ঘুরিয়ে আনে, যার শেষ গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ—জাতীয় সংসদ ভবন।

ঢাকায় এসে নাথানিয়েল সংসদ ভবনের স্থাপত্য ধারণ করতে চাইলেন মাত্র ১০ মিনিটে। তখনই তাঁর সঙ্গে দেখা হয় বুয়েটের আর্কিটেকচার বিভাগের অধ্যাপক ও বিখ্যাত স্থপতি সামসুল ওয়ারেসের। তিনি নাথানিয়েলকে বলেন, “এই ভবন ১০ মিনিটে ধারণ করা সম্ভব নয়। এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি আমাদের গণতন্ত্রের প্রতীক।” আবেগে আপ্লুত হয়ে তিনি আরও বলেন, “লুই কান আমাদের ভালোবাসা দিয়ে গেছেন। হয়তো সে জন্যই তিনি নিজের সন্তানকে ভালোবাসতে পারেননি।”

নাথানিয়েল শেষমেশ ছবিটি শেষ করেন এই বাক্যে—“আমি আমার বাবাকে খুঁজে পেয়েছি।”

স্থপতি সামসুল ওয়ারেস, যিনি বাংলাদেশের স্থাপত্যচিন্তায় এক অনন্য নাম, জন্মেছিলেন ১৯৪৬ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকার বংশালে। শৈশব কেটেছে চাঁদপুরে। পরে ঢাকা কলেজ হয়ে ভর্তি হন ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচার বিভাগে—ভর্তিপরীক্ষায় প্রথম হয়ে।

তিনি কাজ করেছেন কিংবদন্তি স্থপতি মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে। প্রথম দিনের স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে বলেন, “উনি আমাদের কিছুই জিজ্ঞাসা করলেন না—বললেন, এখনই কাজ শুরু করেন।”

বিশ্ববিখ্যাত প্রকৌশলী এফ. আর. খান-এর সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে আমাকে শুনিয়েছিলেন, মুড়ি আর শিঙাড়া খেয়ে খুব খুশি হয়েছিলেন।”

লুই আই কান সম্পর্কে সামসুল ওয়ারেসের শ্রদ্ধা গভীর—
“তাঁর আর্কিটেকচার অন্য স্তরের। সংসদ ভবনের আলো-ছায়ার খেলা মানুষকে ক্ষুদ্র করে ফেলে—যেন হিমালয়ের সামনে দাঁড়ানোর মতো এক অভিজ্ঞতা। তখনই আমরা পৃথিবীকে নতুনভাবে বুঝতে শিখি।”

সামসুল ওয়ারেসের কথাগুলো যেন কবিতা, সংগীত ও ধ্যানের মতো—প্রেরণাদায়ী, ইতিবাচক এবং গভীর। তিনি বাংলাদেশের স্থাপত্য ভাবনায় এমন এক মগ্ন সাধক, যাঁর উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মনে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ