রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের আচরণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করে একটি কুচক্রী মহল অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
গতকাল রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক সিয়াম বিন আইয়ুব স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা অছাত্রসুলভ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশের পরিপন্থী। একজন ছাত্রনেতা হিসেবে শিক্ষকদের সঙ্গে বারবার অশোভন ও মারমুখী আচরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামের একটি গ্রুপে পোস্ট দিয়ে আওয়ামীপন্থী ডিনদের পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেন। একই সঙ্গে ডিনদের চেয়ার দখল করে রাখার বিষয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং ‘বাকিটা বুঝিয়ে দেব’ বলে হুঁশিয়ারি দেন। পরদিন শুক্রবার তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মদদপুষ্ট কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা চাকরিতে বহাল থাকলে তাঁদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেঁধে রাখা হবে।
ছাত্রদলের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘তালা ঝোলানো’ সংস্কৃতি ফ্যাসিবাদের স্মৃতি জাগায়। অতীতে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সহ-উপাচার্যসহ একাধিক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা শিক্ষক সমাজকে অপমান করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. সৈয়দ শামসুজ্জোহার ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠে কোনোভাবেই মব-সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনটি।
ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে কিছু ছাত্র ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর অপচেষ্টা করছে। তথ্য-উপাত্ত ছাড়া অহেতুক ট্যাগিং ও হুমকির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলাম যৌথভাবে বলেন, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হুমকি, অশালীন ও মারমুখী আচরণ জ্ঞানচর্চার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। একজন ছাত্রনেতার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য।
এদিকে গতকাল রোববার সকালে ছয়টি অনুষদের ডিনদের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি রাকসু ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং গণমাধ্যমের সামনে একে একে ডিনদের ফোন করে তাঁদের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন। পরে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের বিভাগে গেলেও তাঁকে সেখানে পাননি। দুপুরে কয়েকজন শিক্ষার্থী ডিনস কমপ্লেক্সের তিনটি কার্যালয় এবং পরে উপাচার্যসহ প্রশাসন ভবনের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রশাসনের আশ্বাসে পরে তালা খুলে দেওয়া হয়।