google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু হতে যাচ্ছে
জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করতে শিগগিরই তদন্ত শুরু হচ্ছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা এ দলটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল হওয়া অভিযোগ যাচাই-বাছাই চলছে। গতকাল ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হবে।”
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। গতকাল ট্রাইব্যুনাল-২–এ অভিযোগ জমা দেওয়ার পর শুনানি হয়। আদালত আজ আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
হানিফ ছাড়াও অভিযুক্তরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, হানিফের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত থেকে “ছাত্রলীগই যথেষ্ট” বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের ষড়যন্ত্রে অংশ নেন। কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের বৈঠক ও ছয়জন হত্যার ঘটনার ওপর ভিত্তি করেও অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাই এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে চেষ্টা অব্যাহত আছে, গ্রেপ্তার হলে আদালতে হাজির করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংশোধিত আইন অনুযায়ী, গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণিত হলে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা, নিবন্ধন বাতিল করা এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা পেয়েছে ট্রাইব্যুনাল। ফলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও একই ধরনের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
একই সময়ে জুলাই–আগস্ট অভ্যুত্থানে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জন হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আগামী ৯ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণ হবে। এতে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজন আসামি রয়েছেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।