google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ফার্নেস তেলের দাম কমেনি, বছরে পিডিবির অতিরিক্ত খরচ হাজার কোটি টাকা
প্রতি লিটার ফার্নেস তেলে ৭০ টাকা খরচ পড়ছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে, অথচ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) একই তেল সরবরাহ করছে ৮৬ টাকা দরে। অর্থাৎ, প্রতি লিটারে ১৬ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)।
প্রতি মাসে গড়ে ৬০ হাজার টন ফার্নেস তেল নেয় পিডিবি, ফলে তাদের মাসিক অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা। বছরে এ অঙ্ক হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিপিসি সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২ আগস্ট ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণ করে। এরপর বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে তা হালনাগাদ হয়নি। বিপিসি সূত্রে জানা যায়, গত জানুয়ারিতে প্রতি টন ফার্নেস তেলের দাম ছিল ৪৮৬ ডলার, এখন তা কমে ৩৭৩ ডলার—অর্থাৎ ২৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তবুও দেশে কোনো সমন্বয় না হওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় বেড়েই চলেছে। গত বছর বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ছিল ৬২ হাজার কোটি টাকা। এবারও পিডিবি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
একদিকে বিপিসি বাড়তি দরে তেল বিক্রি করে মুনাফা করছে, অন্যদিকে পিডিবি ভর্তুকির অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে জ্বালানি তেল সরবরাহের দায়িত্বে থাকে পিডিবি। তারা চাইলে নিজেরা তেল আমদানি করতে পারে, সেক্ষেত্রে ৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জসহ খরচ পিডিবি বহন করে।
বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন (বিআইপিপিএ) জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতে তারা তেল নিয়েছিল ৮৫–৮৭ টাকায়, এখন নিচ্ছে ৭০ টাকায়। অথচ বিপিসি একই তেল ৮৬ টাকায় বিক্রি করছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন,
“একটি সরকারি সংস্থা লিটারে ১৬ টাকা বেশি নেয় কেমন করে? এটা তো অপরাধ। এ লুণ্ঠনের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। জ্বালানি বিভাগও দায় এড়াতে পারে না।”
বিপিসি ও পিডিবি সূত্রে জানা যায়, গত বছর পিডিবি বিপিসির কাছ থেকে ৮ লাখ ৬৭ হাজার টন ফার্নেস তেল নিয়েছিল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ৭২ হাজার টন, যা ৫৭ কোটি লিটার সমান।
বাকি তিন মাসে আরও ১৩ কোটি লিটার তেল সরবরাহের কথা রয়েছে। দাম অপরিবর্তিত থাকলে পিডিবিকে অতিরিক্ত ২০৮ কোটি টাকা দিতে হবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা রাখলেও, ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণের প্রবিধান এখনো কার্যকর হয়নি।
বিইআরসির এক কর্মকর্তা জানান,
“বিপিসির কোনো লাইসেন্স নেই বিইআরসির। তাই তাদের প্রস্তাব ধরে গণশুনানি আয়োজনের সুযোগ নেই।”
অন্যদিকে বিপিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা বিইআরসির হাতে যাওয়ার পর থেকে তারা আর দাম সমন্বয়ের সুযোগ পাননি। বিইআরসিকে প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনো গণশুনানি হয়নি।
ফলে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে সেই সুফল পৌঁছায়নি, বাড়তি চাপ পড়ছে বিদ্যুৎ খাতে।