google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মেট্রোরেল দুর্ঘটনায় নিহত আবুল কালাম: পরিবারের ভরসার স্তম্ভটি হারিয়ে গেলেন

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 26, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: মেট্রোরেল দুর্ঘটনায় নিহত আবুল কালাম: পরিবারের ভরসার স্তম্ভটি হারিয়ে গেলেন ছবির ক্যাপশন: মেট্রোরেল দুর্ঘটনায় নিহত আবুল কালাম: পরিবারের ভরসার স্তম্ভটি হারিয়ে গেলেন
ad728

কিশোর বয়সে বাবা–মাকে হারিয়ে ভাই-বোনদের সংসারে বড় হয়েছিলেন আবুল কালাম। কঠোর পরিশ্রমে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সেই জীবনের সব স্বপ্ন থেমে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।

আজ রোববার রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি পিলারের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে তাঁর ওপর আঘাত হানলে ঘটনাস্থলেই মারা যান আবুল কালাম।

আবুল কালামের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামে। গ্রামের মানুষ ও স্বজনেরা তাঁর এমন অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।

ঈশ্বরকাঠি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, জলিল চোকদার ও হনুফা বেগম দম্পতির চার ছেলে ও ছয় মেয়ের মধ্যে আবুল কালাম ছিলেন ভাইদের মধ্যে সবার ছোট। বাবা-মা মারা যান প্রায় ২০ বছর আগে। এরপর বড় ভাই ও বোনদের কাছেই বড় হন তিনি।

রোববার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে আবুল কালামের মাথায় আঘাত লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গণমাধ্যমের মাধ্যমে মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

আবুল কালামের বাল্যবন্ধু রিহিনুজ্জামান বলেন, “এক মাস আগে সে গ্রামে এসেছিল, তখন আমার সঙ্গে দেখা হয়। আমার সেই হাস্যোজ্জ্বল বন্ধুটি আজ আর নেই, বিশ্বাস করতে পারছি না।”

সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ২০১২ সালে আবুল কালাম যান মালয়েশিয়ায়। সেখানে কয়েক বছর কাজ করার পর ২০১৮ সালে দেশে ফিরে পাশের গ্রামের আইরিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাঁদের ছয় বছরের এক ছেলে ও চার বছরের এক মেয়ে রয়েছে। পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঠানটুলীতে থাকতেন তিনি। ঢাকার মতিঝিলের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করতেন এবং প্রতিদিন অফিসে যেতেন নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায়।

রোববারও প্রতিদিনের মতো সকালে তিনি কাজে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু দুপুরে সেই যাত্রা হয়ে গেল তাঁর জীবনের শেষ পথচলা।

আবুল কালামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকে ভেঙে পড়ে ঈশ্বরকাঠি গ্রাম। বিকেলে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বড় ভাই খোকন চোকদারের ঘরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বড় বোন সেলিনা বেগম ও পরিবারের অন্য সদস্যরা।

সেলিনা বেগম বলেন, “আমার ভাই সারা জীবন কষ্ট করেছে। কিশোর বয়সে বাবা-মাকে হারিয়েছে, এখন দুই সন্তান রেখে নিজেও চলে গেল। কে দেবে এখন ওদের পিতার স্নেহ?”

বড় ভাই খোকন চোকদার বলেন, “গত মাসে গ্রামের কাজে এসেছিল সে। বুঝিনি, সেটাই হবে তার শেষবার আসা। এখন সে ফিরবে নিথর দেহ হয়ে। আমাদের পরিবারের সঙ্গে এমন হলো কেন? সে তো কারও কোনো ক্ষতি করেনি।”

আবুল কালামের অকালমৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারকেই নয়, শোকে ডুবিয়েছে পুরো গ্রামকেও। সবাই এখন অপেক্ষায়, প্রিয় মানুষটির নিথর দেহটি গ্রামের মাটিতে শেষবারের মতো ফিরিয়ে আনার।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ