সরকার দেশের সব সরকারি স্থাপনার ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ছাদে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ধাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের মোট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত নেওয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে তিন মন্ত্রণালয় ও ছয়টি বিভাগের সঙ্গে আলাদা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই ছয়টি বিভাগ হলো:
-
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ
-
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ
-
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ
-
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ
-
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ
সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, ছাদ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা। ইতিমধ্যে ৪৬,৮৫৪টি প্রতিষ্ঠানে ১,৪৫৪.৬১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্রে অংশ নিয়ে যে সংস্থা সবচেয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে, তার সঙ্গে চুক্তি করা হবে। ঠিকাদার নিজেই বিনিয়োগ আনবে বা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থায়ন নিতে পারবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, দরপত্র প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত দরপত্র জমা দিতে হবে। ৫ ডিসেম্বর দরপত্র মূল্যায়ন, ১০ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে হবে। সময়মতো কাজ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করা। জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ।
বিদ্যুৎ খাতের ছয়টি বিতরণ সংস্থা হলো:
-
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)
-
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)
-
ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)
-
নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)
-
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)
-
ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)
এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় গ্যাসের খরচ কমিয়ে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হবে এবং গ্রিডে অতিরিক্ত খরচ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।