google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এম সাইফুর রহমানের স্মৃতিতে এরশাদবিরোধী আন্দোলন ও খালেদা জিয়ার উত্থান

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 31, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: এম সাইফুর রহমানের স্মৃতিতে এরশাদবিরোধী আন্দোলন ও খালেদা জিয়ার উত্থান ছবির ক্যাপশন: এম সাইফুর রহমানের স্মৃতিতে এরশাদবিরোধী আন্দোলন ও খালেদা জিয়ার উত্থান
ad728

সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান তাঁর স্মৃতিচারণায় তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিএনপির বিভক্তি, বিচারপতি সাত্তারের রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের নানা দিক তুলে ধরেছেন।

এম সাইফুর রহমান লেখেন, বিচারপতি সাত্তার ছিলেন দুর্বল প্রকৃতির মানুষ—এ কথা তিনি তখনই বুঝেছিলেন। তাঁর ভাষায়, বেগম খালেদা জিয়ার নামে মনোনয়ন দাখিল করা হলেও তা প্রত্যাহার করিয়ে বিচারপতি সাত্তারের পক্ষে সমর্থন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমানও সাত্তারের পক্ষে আগ্রহী ছিলেন। ওই সময় লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার শামসুদ্দোহা ঢাকায় এসে মনোনয়ন নিয়ে মতভেদের বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাইফুর রহমানের ধারণা, এসবের পেছনে জেনারেল এরশাদের প্রভাব ছিল।

মনোনয়ন নিয়ে নিজের অবস্থানের কারণে জেনারেল এরশাদ তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন বলেও মনে করেন সাইফুর রহমান। সামরিক আইন জারির পরপরই তাঁকে ও তানভীর আহমদ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় আট-নয় মাস কারাভোগের পর মুক্তি পান তিনি।

বিচারপতি সাত্তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর পক্ষে কাজ করেন সাইফুর রহমান। সিলেট অঞ্চলে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। সাত্তার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাঁকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয়। তবে এর পরপরই জেনারেল এরশাদ প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়ে বক্তব্য দিতে শুরু করেন, যা দেশে-বিদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে কর্মরত এম সাইদুজ্জামানের কাছ থেকে সাইফুর রহমান জানতে পারেন, এরশাদের বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদেশি সহায়তা বন্ধ বা কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা তিনি প্রেসিডেন্ট সাত্তারকে অবহিত করেন।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠান। মুক্তির পর তিনি জানান, তখন থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক আন্দোলন নতুনভাবে শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপিতে নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সাইফুর রহমানসহ দলের একাংশ খালেদা জিয়াকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া প্রথমে রাজনীতিতে আসতে অনিচ্ছুক ছিলেন। কিন্তু দলের সংকট, শাহ আজিজের নেতৃত্বে বিএনপির একাংশের আলাদা হয়ে যাওয়া এবং এরশাদের প্রভাব—সব মিলিয়ে তাঁকে নেতৃত্বে আনার প্রয়োজন দেখা দেয়। এই উদ্যোগে তানভীর আহমদ সিদ্দিকী, ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মীর্জা গোলাম হাফিজসহ অনেক নেতা যুক্ত ছিলেন।

খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব নেওয়ার পর এরশাদবিরোধী আন্দোলন নতুন গতি পায়। বিএনপির নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সাতদলীয় জোট, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে পনেরো দলীয় জোট। এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে খালেদা জিয়া ছিলেন অনড়। বিপরীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেয়, যা আন্দোলনকে দুর্বল করে দেয় বলে মন্তব্য করেন সাইফুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, এরশাদ বিএনপিকে ১২৬টি আসনের প্রস্তাব দিলেও খালেদা জিয়া তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। দলের ভেতরে ভিন্নমত থাকলেও তিনি বলেন, এরশাদের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। এই আপসহীন অবস্থানই তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরে।

এরপরও আন্দোলন থেমে থাকেনি। ১৯৮৭ সালে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং ১৯৮৮ সালের নির্বাচন দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার হয়। শেষ পর্যন্ত প্রবল গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হন। প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরে অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন।

এম সাইফুর রহমানের এই স্মৃতিচারণায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা, নেতৃত্বগুণ ও আপসহীন অবস্থানই তাঁকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চতায় নিয়ে গেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ