জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায়-সম্পর্কিত সুপারিশসমূহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আজ মঙ্গলবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এই সুপারিশ হস্তান্তর করেন। সুপারিশ হস্তান্তরের সময় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কমিশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
কমিশনের মতে, সুপারিশগুলোর মধ্যে অন্তত ৯টি বিষয় নির্বাহী আদেশ অথবা সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—
-
অধস্তন আদালত সম্প্রসারণ: ভৌগোলিক অবস্থান, জনঘনত্ব ও অবকাঠামো বিবেচনায় উপজেলা পর্যায়ে আদালত স্থাপন ও উন্নয়ন।
-
বিচার বিভাগের জনবল বৃদ্ধি: বিচারক ও সহায়ক কর্মী নিয়োগ বাড়ানো এবং বিশেষায়িত আদালত স্থাপন।
-
আদালত ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও ডিজিটাইজেশন: মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে এবং খরচ নিয়ন্ত্রণে আদালতের ডিজিটাল রূপান্তর।
-
আইনজীবীদের আচরণবিধি আধুনিকীকরণ: বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল জেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা এবং আদালত এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ।
-
গণহত্যা ও ভোট জালিয়াতি তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন।
-
কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে নতুন দুই প্রশাসনিক বিভাগ গঠন।
-
দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় কৌশলপত্র প্রণয়ন ও ন্যায়পাল নিয়োগ।
-
সকল সরকারি সেবা অটোমেশন: থানা, রেজিস্ট্রি ও অন্যান্য সেবা খাতে এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটাল সিস্টেম।
-
ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপে যুক্ত হওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, যেসব বিষয়ে সাংবিধানিক বাধা নেই সেগুলো দ্রুত কার্যকর করা যেতে পারে এবং এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও কোনো মতভেদ নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এসব পদক্ষেপ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করলে নাগরিক সেবা ও বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।