ঢাকা: পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক তিন মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে আজ আদালতে আরও তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন আজ সাক্ষীদের সাক্ষ্য রেকর্ড করেছেন। আদালত আগামী ৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন। আজ সাক্ষ্য দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জহিরুল ইসলাম খান, দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এবং দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন।
এদিকে, মামলার অন্য আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন করলে, দুদকের বিরোধিতার পর আদালত আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুদকের পিপি সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। শেখ হাসিনা ও পরিবারের ২৩ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা পরিবারের অন্যান্য সদস্য যেমন বোন শেখ রেহানা, নাতনী টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক।
শেখ হাসিনা পরিবারের বাইরে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গণপূর্তের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্যরা সহ মোট ১৬ জন।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যরা রাজউকের কাছে মিথ্যা হলফনামা দিয়ে দাবি করেছিলেন যে ঢাকা শহরে তাঁদের কোনও সম্পত্তি নেই। তবে অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে, পরিবারের সদস্যদের নামে বাড়ি, জমি ও গাড়ি রয়েছে এবং তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৬০ কাঠার প্লট নিয়েছেন। এই ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক এবং গত ১০ মার্চ অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়, যাতে অভিযোগ করা হয়, পরিবারটি পরস্পর যোগসাজশে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ গ্রহণ করেছে।