১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে নিজের একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও তা বাস্তবায়নে দেশের সব মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার পর ঢাকার তিনশ ফুট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লাখো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান।” এ বক্তব্যের আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক “আই হ্যাভ আ ড্রিম” ভাষণের কথা স্মরণ করেন।
২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থান করা তারেক রহমান আজ দেশে ফেরেন। তাঁর মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বর্তমানে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে তাঁর দেশে ফেরা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর একটি বিশেষ বাসে করে তিনি ঢাকার বিভিন্ন সড়ক অতিক্রম করেন। সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের কারণে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তাঁর তিন ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। বিকেলে তিনি পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে সড়কে স্থাপিত সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান।
দেশে ফেরার পর দেওয়া প্রথম ভাষণে তারেক রহমান বলেন, তাঁর পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থেই প্রণীত। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সারা দেশের গণতান্ত্রিক শক্তির সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণ পাশে থাকলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ধর্ম, শ্রেণি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাইকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে। শিশু, নারী ও পুরুষসহ সব বয়স, পেশা ও ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে—এটাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
ভাষণের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসবেন, তারা যেন নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ করে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন—এই প্রত্যাশাও তিনি ব্যক্ত করেন।