যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গে নতুন তিন বছরের চুক্তি করেছেন লিওনেল মেসি। গত বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত মায়ামির গোলাপি জার্সিতেই দেখা যাবে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে। ৩৮ বছর বয়সী মেসির ক্যারিয়ারের এটি হতে পারে পেশাদার ফুটবলে তাঁর শেষ চুক্তি।
চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা ও গোপন প্রস্তুতি
সবকিছু প্রায় চূড়ান্ত ছিল, অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। ইঙ্গিতটি প্রথম পাওয়া যায় ২১ অক্টোবর, যখন মায়ামি ফ্রিডম পার্ক স্টেডিয়ামের নির্মাণশ্রমিকদের জানানো হয়—পরের দিন (বুধবার) কাজ কিছুটা বিঘ্নিত হবে। কারণ, সেখানে আসছেন দুই বিশেষ ব্যক্তি—ডেভিড বেকহাম ও লিওনেল মেসি।
পরদিন তাঁরা হাজির হন ভিডিও ধারণের জন্য, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ঘোষণা দেওয়া হয় মেসির নতুন চুক্তির খবর। ভিডিও ধারণ শেষে মেসি নির্মাণশ্রমিকদের হেলমেটে সইও করেন—যে ভবনটি তাঁর নামে উদ্বোধন করা হবে।
চুক্তির আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র আগের রাতেই পাঠানো হয়েছিল এমএলএস কর্তৃপক্ষের কাছে। এরপরই নিশ্চিত হয় সেই প্রতীক্ষিত খবর—মেসি ইন্টার মায়ামিতেই থাকছেন, আরও তিন বছরের জন্য।
মায়ামির সঙ্গে মেসির বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর
নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে মেসির ক্লাবটির আংশিক মালিকানা পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে। ২০২৩ সালে মেসির আগমনের আগে ইন্টার মায়ামির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা এখন ১২০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। নতুন স্টেডিয়াম এবং মেসির উপস্থিতিতে এই মূল্য আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুক্তির পেছনের গল্প
চুক্তি চূড়ান্ত করতে মায়ামি ও মেসির আইনজীবীরা কয়েক মাস ধরে কাজ করেছেন। মাঝেমধ্যে গুঞ্জন উঠেছিল—মেসি নাকি সৌদি আরব বা আর্জেন্টিনায় ফিরবেন। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি থেকে গেলেন মায়ামিতেই।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, এটাই হতে পারে মেসির ক্যারিয়ারের শেষ চুক্তি। গত সপ্তাহের শুরুতেই এমএলএস চুক্তিটিতে অনুমোদন দেয়, এরপরই ঘোষণা আসে প্লে-অফের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ও মেসির ভবিষ্যৎ
চুক্তি ঘোষণার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ৪০ বছর বয়স পেরিয়েও মাঠে দেখা যাবে মেসিকে। এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছেন, তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে চান। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেননি।
‘মেসি কাপ’—যুব ফুটবলে নতুন অধ্যায়
মেসি এখন কেবল খেলোয়াড় নন, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের উন্নয়নেও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন ‘মেসি কাপ’ নামের একটি আন্তর্জাতিক যুব টুর্নামেন্টের, যেখানে অংশ নেবে মায়ামির অনূর্ধ্ব–১৬ দলসহ বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটি, আতলেতিকো মাদ্রিদ, চেলসি, নিউওয়েলস ও রিভার প্লেটের মতো ক্লাব। এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ডিসেম্বরে মায়ামির চেজ স্টেডিয়ামে।
মায়ামিতে মেসির প্রভাব
মেসির আগমনের পর থেকে ইন্টার মায়ামি শুধু একটি ফুটবল দল নয়, একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এমএলএসে বাণিজ্যিক আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে ক্লাবটি, দর্শকসংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ, এবং মায়ামির গোলাপি জার্সি এখন বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক প্রতীক।
একই বৃন্তে দুটি কুসুম
গত সপ্তাহে ফ্রিডম পার্কে ভিডিও ধারণের সময় মেসির পরিবার, বেকহাম ও ক্লাবের সহমালিক হোর্হে মাসও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা একসঙ্গে ঘুরে দেখেন ভবিষ্যতের স্টেডিয়াম ও আসন্ন পরিকল্পনা। সবকিছুই যেন ইঙ্গিত দেয়—
👉 মেসি ও ইন্টার মায়ামি এখন একই বৃন্তে দুটি কুসুম, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ইতিহাসে একে অপরের সঙ্গে চিরস্মরণীয়ভাবে জড়িয়ে গেলেন।