google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে ইরান–হাইতির ফুটবলপ্রেমীরা, বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ফিফা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। বিশ্বের যে কোনো দেশের দর্শক টিকিট আবেদন করতে পারলেও ইরান ও হাইতির সমর্থকদের সামনে দেখা দিয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। কারণ, এ দুই দেশই বিশ্বকাপে জায়গা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাঁদের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে।
এই পরিস্থিতি ফিফাকে ফেলেছে বিব্রতকর অবস্থায়। ‘বিশ্বকে এক করার’ অঙ্গীকার নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করলেও এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি অংশগ্রহণকারী দুই দেশের সমর্থকেরা মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবেন কি না।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা মিলিয়ে বিশ্বকাপের আয়োজন করছে, ইরান ও হাইতির সব গ্রুপ ম্যাচই পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
হাইতি খেলবে বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া ও আটলান্টায়।
ইরান খেলবে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় থাকা ১২ দেশের মধ্যে রয়েছে ইরান ও হাইতি। অথচ দুদেশই যথাক্রমে এশিয়া ও কনক্যাকাফ বাছাই থেকে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লেও ক্রীড়া দলগুলোর প্রবেশে শিথিলতা রয়েছে—ফলে ইরান ও হাইতির ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে বাধা নেই। তবে দর্শকদের জন্য নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রাণ হচ্ছে অংশগ্রহণকারী দেশের সমর্থকেরা—এ কারণে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিফা উভয়ই চাপে রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত। বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে ইরানের কয়েকজন প্রতিনিধি ভিসা না পাওয়ায় দেশটি বর্জনের ঘোষণা দেয়। পরে ফিফার হস্তক্ষেপে তারা সিদ্ধান্ত বদলায়।
এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান বদলায়নি। টাস্কফোর্স পরিচালক অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি জানিয়েছেন, ‘সম্ভাব্য হুমকি’ মনে করা ব্যক্তিদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কার্লোস দে লাস হেরাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বিশ্বকাপের অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনার জন্য হুমকি। তাঁর মতে, হাজার হাজার সমর্থককে বাদ রেখে বিশ্বকাপ কখনোই ফুটবলের উৎসব হতে পারে না।
স্প্যানিশ দৈনিক দিয়ারিও এএসের প্রশ্ন সত্ত্বেও ফিফা এখনো জানায়নি, ইরান–হাইতির সমর্থকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে তারা কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, টিকিটধারীদের জন্য ‘ফিফা পাস’ নামে দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া চালু করা হতে পারে। এতে ভিসা ৬০ দিনের কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে এই সুবিধা নিষেধাজ্ঞা–আবদ্ধ ইরান ও হাইতির নাগরিকদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে কি না—সেটিও এখনো পরিষ্কার নয়।
সবচেয়ে বড় সমস্যাটি—বিশ্বকাপের মূল আয়োজক ফিফা নিজেই জানে না ইরান ও হাইতির সমর্থকদের মাঠে ঢোকার সুযোগ শেষ পর্যন্ত হবে কি না।
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক মাস আগে এমন অনিশ্চয়তা টুর্নামেন্টের অন্তর্ভুক্তিমূলক চিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।