google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: “ক্রিকেটই আমার আসল পরিচয়”— আকরাম খানের জীবনের গল্পে ভালোবাসা, সংগ্রাম আর সাফল্যের ছোঁয়া
১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। পরের বছর হায়দরাবাদে কেনিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের কৃতিত্বও তাঁর নেতৃত্বে। খেলোয়াড়ি জীবনের পরও তিনি হারিয়ে যাননি— নির্বাচক, প্রধান নির্বাচক, বোর্ড পরিচালক— নানা ভূমিকায় থেকেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে। তিনি আকরাম খান।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে আকরাম খান কথা বলেছেন নিজের জীবনের নানা অজানা অধ্যায় নিয়ে— ক্রিকেট, পরিবার, প্রেম, সংগ্রাম ও বর্তমান জীবন নিয়ে।
আকরাম খান বলেন, “প্রেমের আগে ক্রিকেট এসেছে আমার জীবনে। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম, তখন ডিভাইস ছিল না। খেলা আর পড়াশোনাই ছিল জীবন। পরিবারটাই খেলাধুলা ভালোবাসত, বড় ভাই ফুটবলার ছিলেন, আমিও ফুটবল-ক্রিকেট দুটোই খেলতাম।”
শৈশবের প্রেম সাবিনাকে নিয়েও মজার স্মৃতি শেয়ার করেন আকরাম, “আমাদের বারান্দা থেকে ওদের বারান্দা দেখা যেত। আমি ব্যাটিং প্র্যাকটিস করতাম, ও দেখত। প্রেমের গল্পের মাঝেই গড়ে উঠেছিল ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা।”
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে খেলার জীবন শুরু করা আকরাম বলেন, প্রথম দিকে একা একা থাকতে কষ্ট হতো। “ঢাকায় এসে প্রথমে রেলওয়ে ক্লাবে খেলেছিলাম। তখন দুই হাজার টাকা পেতাম। সেই টাকায় কিনেছিলাম ব্যাট-প্যাড।”
তাঁর জীবনের বড় মোড় আসে ফুটবলার আশীষ ভদ্রের পরামর্শে, যিনি তাঁকে আবাহনী ক্লাবে খেলতে উৎসাহ দেন। সেখান থেকেই জনপ্রিয়তা ও সাফল্যের সূচনা। “আবাহনীর পরেই আমার জীবন বদলে যায়,” বলেন আকরাম।
নিজের শারীরিক গঠন নিয়ে মজা করে আকরাম বলেন, “আমি ক্লাস সেভেন থেকেই ওভারওয়েট। তবে খেলার জন্য এটা কখনো সমস্যা হয়নি। আমি ফিটনেসের চেয়ে পারফরম্যান্সে বিশ্বাস করতাম।”
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে এখন আকরাম পরিবারকেই সময় দিচ্ছেন বেশি। “পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেই ভালো লাগে। স্ত্রী সাবিনা আমার জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে পাশে থেকেছে। মেয়েরা এখন বিদেশে, সুযোগ পেলে ওদের কাছেই যাই,” বলেন তিনি।
খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারেও তাঁর আলাদা গল্প, “আগে মাছ খেতাম না, এখন খাই। আমার স্ত্রীই আমাকে শেখায় মাছও সুস্বাদু হতে পারে।”
বর্তমান সময় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে আকরাম খান বলেন, “আমি বোর্ডের পদে না থাকলেও ক্রিকেট থেকে দূরে নই। গত এক-দেড় বছরে পরিবেশটা ভালো লাগছিল না, তাই দূরে আছি। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটেই আমি সব সময় ছিলাম, আছি, থাকব। আমার আসল পরিচয় একজন ক্রিকেটার।”