গাজায় ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার পর প্রথম দফায় সাতজন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মিদের গাজায় আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তাদের নাম–পরিচয় প্রথমে প্রকাশ করা হয়নি। পরে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে, মুক্তিপ্রাপ্ত সাতজন হলেন—যমজ গালি ও জিভ বারম্যান, মাতান অ্যাংরেস্ট, অ্যালোন ওহেল, ওমরি মিরান, এইতান মোর ও গাই গিলবোয়া-দালাল।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাস ইতোমধ্যেই জিম্মিদের রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করেছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)–এর হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং এরপর তারা ইসরায়েলে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) এক পোস্টে জানিয়েছে, আইসিআরসি তাদের জানিয়েছে যে হামাস সাতজন ইসরায়েলি জিম্মিকে সংগঠনটির কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে রেড ক্রসের প্রতিনিধিরা গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা সদস্যদের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
তেল আবিবে উল্লাস, গাজায় জনতার সমাগম
জিম্মি মুক্তির খবরে তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে হাজারো মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। অনেকে একে অপরকে আলিঙ্গন করছেন, গান গাইছেন, কেউ কেউ ইসরায়েলের পতাকা হাতে উদযাপন করছেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে জনতার ঢল নেমেছে। সেখানে অবস্থিত নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে শত শত মুক্ত ফিলিস্তিনি বন্দির পৌঁছানোর অপেক্ষায় আছেন স্থানীয়রা।
বন্দি বিনিময়ের প্রেক্ষাপট
এর আগে হামাস মোট ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মির তালিকা প্রকাশ করে, যাদের মুক্তি দেওয়া হবে বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে। বর্তমানে হামাসের হাতে থাকা ৪৮ জন জিম্মির মধ্যে এই ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি কারাগার থেকে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।
গাজায় দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও যুদ্ধের মধ্যেই এই জিম্মি মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে আন্তর্জাতিক মহল শান্তি ও মানবিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।