google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: আগামী নির্বাচনে কালোটাকার প্রভাব থাকবে: উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কালোটাকার প্রভাব ও দৌরাত্ম্য থেকে মুক্ত থাকা যাবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় ১০ থেকে ২০ কোটি টাকা না থাকলে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় অসম্ভব। যাদের কালোটাকা আছে, তারাই আসলে নির্বাচনে সুযোগ পায়। ফলে আমাদেরও ভাবতে হয়, ইলেকশনে নামব কি না, আর নামলে কিভাবে নামব—মানুষ কি টাকা ছাড়া ভোট দেবে?”
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। আলোচনার বিষয় ছিল “নভেম্বর থেকে জুলাই : বিপ্লব থেকে বিপ্লবে”।
জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ এখন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য নাহিদ ইসলাম নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও আসিফ মাহমুদ এখনো নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেননি।
তিনি বলেন, “আমি যদি কোনো দলের হয়ে নির্বাচন করি, তাহলে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করব।”
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে এনসিপি অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্মরণ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই অনেক রাজনৈতিক নেতা এস্টাবলিশমেন্টের আশ্রয় নেন। আমরা তখন ২৫-২৬ বছরের তরুণ, নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে ছিলাম। আমাদেরও কিছু ভুল ছিল, তবে সিনিয়র নেতাদের সিদ্ধান্তে আমাদের হাতে খুব বেশি কিছু ছিল না।”
তিনি আরও জানান, তাঁরা সেই সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের এস্টাবলিশমেন্টে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের কথা শোনা হয়নি। পরে দেশের অবস্থা বিবেচনায় ছাত্রনেতারা দ্রুত অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে একমত হন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি ৫ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি “মিডল গ্রাউন্ড” আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাঁর ভাষায়, “আমাদের বলা হলো, ক্যান্টনমেন্টে আসেন। কিন্তু আমরা বলেছিলাম, সেটা সম্ভব নয়। পরে বাধ্য হয়ে একটা মাঝামাঝি স্থানে আলোচনায় অংশ নিই।”
এই আলোচনায় কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, “২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দেশে একটি সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব ঘটেছিল। সেই সময় নেতৃত্বে থাকা তরুণেরা কিছু ভুল করেছিল। এখনো সময় আছে, তারা চাইলে তা সংশোধন করতে পারে—তবে সময় খুব বেশি নেই।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ সঞ্চালিত এই গোলটেবিলে আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, পুসাবের স্থায়ী কমিটির সদস্য ফাহমিদুর রহমান, এবং অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট মোহাম্মদ সজল।