google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: জনগণের ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ও দায়বদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “অবশ্যই কারও দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করা এই সরকারের কাজ নয়।”
শনিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত ‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন–২০২৫’–এ লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোট।
অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও মঠ-মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ধর্মগ্রন্থ বেদ ও গীতা পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়, পরে অতিথিরা প্রদীপ প্রজ্বালন করেন।
তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, দেশ অস্থিতিশীল হলে পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ সম্পর্কে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অনেকেই বাঁচার জন্য গুপ্ত কৌশল নিয়েছিল। এখন সেই পরাজিত অপশক্তিও একইভাবে গুপ্ত কৌশল অবলম্বন করে গণতন্ত্রের উত্তরণে বাধা দিতে পারে—এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
বিএনপি নেতা বলেন, “পতিত ও পলাতক অপশক্তিকে কোনো সুযোগ না দেওয়ার জন্য ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।”
তিনি যোগ করেন, বিএনপি সবসময়ই সহযোগিতা, সমঝোতা ও ঐক্যের রাজনীতি সমুন্নত রাখবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপিকে একটি ‘শান্তিকামী, সহনশীল ও গণমুখী দল’ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “ভিন্ন দল ও মতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করাই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে বিএনপি স্বল্প আয়ের পরিবারকে সহায়তার জন্য ৫০ লাখ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করবে এবং তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে বলে ঘোষণা দেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশ-বিদেশে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।”
বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের বন্ধন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের সৌন্দর্য। এই ঐক্যসূত্রই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান — কারও বেশি বা কম নয়।”
সম্মেলনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা তাঁদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের আহ্বায়ক সোমনাথ সেন।
এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ও ইকবাল হাসান মাহমুদ বক্তব্য দেন।
এছাড়া মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সদস্যসচিব কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, যুগ্ম আহ্বায়ক সমেন সাহা, হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, হিন্দু ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা সুবর্ণা রানী ঠাকুর বক্তব্য রাখেন।