google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শীতকে অস্ত্র বানিয়ে ইউরোপে নতুন শরণার্থী সংকট তৈরির পথে পুতিন

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 8, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: শীতকে-অস্ত্র-বানিয়ে-ইউরোপে-নতুন-শরণার্থী-সংকট-তৈরির-পথে-পুতিন ছবির ক্যাপশন: শীতকে-অস্ত্র-বানিয়ে-ইউরোপে-নতুন-শরণার্থী-সংকট-তৈরির-পথে-পুতিন
ad728

শীত যত গভীর হচ্ছে, ইউক্রেনে ততই বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে গঠিত মিত্রদের জোট ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ সম্প্রতি ইউক্রেনকে সহায়তা করতে বিপুল অর্থ ও সম্পদ জোগাড়ের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে বড় শহরগুলোয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা যায় এবং নাগরিকদের ঘরবাড়ি উষ্ণ রাখা সম্ভব হয়।
যদিও শীতের আগমন কিছুটা দেরিতে (২৮ অক্টোবর) ঘটেছে, তবে আসন্ন মাসগুলোয় ইউক্রেনের ঘরবাড়ি উষ্ণ থাকবে কি না, সে নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি।

রাশিয়ার কৌশল: অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে মানবিক বিপর্যয়

রাশিয়ার সেনারা অব্যাহতভাবে ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্যাস সংরক্ষণাগার এবং রেলওয়ে জংশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছেন। তাঁদের লক্ষ্য, শীত নামার আগেই ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া।
‘জেনারেল উইন্টার’ বা শীতকাল একসময় নেপোলিয়ন ও হিটলারের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগী ছিল। এবার সেই শীতকেই অস্ত্র বানিয়ে রাশিয়া শুধু ইউক্রেন নয়, গোটা ইউরোপকেও বিপর্যস্ত করার চেষ্টা করছে।

নতুন লক্ষ্য: ইউরোপে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি

যুদ্ধে সরাসরি জয়লাভে ব্যর্থ হয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখন যুদ্ধের ভারকেন্দ্র সরিয়ে এনেছেন ইউক্রেনের জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামোর দিকে
২০২২ ও ২০২৩ সালে ইউক্রেনকে ‘ঠান্ডায় জমিয়ে আত্মসমর্পণ করানোর’ চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু এবার পুতিনের লক্ষ্য ভিন্ন—শুধু ইউক্রেন নয়, মানবিক বিপর্যয়ের মাধ্যমে ইউরোপকেও অস্থির করে তোলা।

শরণার্থী সংকটের আশঙ্কা

রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর ২০২২ সালে লাখ লাখ ইউক্রেনীয় পশ্চিমে পালিয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৫০ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী রয়েছেন।
এর মধ্যে জার্মানি আশ্রয় দিয়েছে প্রায় ১২ লাখ এবং পোল্যান্ড প্রায় ৯ লাখ শরণার্থীকে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধক্লান্তিজনমতের পরিবর্তন স্পষ্ট হচ্ছে।

জার্মানিতে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ নাগরিক চান সামরিক সক্ষমতাসম্পন্ন ইউক্রেনীয় পুরুষদের দেশে ফেরানো হোক, এবং ৬৬ শতাংশ চান না তারা কোনো আর্থিক সুবিধা পাক। গত বছর ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য জার্মানির ব্যয় ছিল ৬ বিলিয়ন ইউরো।

ইউরোপের জন্য নৈতিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষা

যদি ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়, তাহলে নতুন করে আরও এক বিধ্বংসী শরণার্থী ঢেউ ইউরোপে আছড়ে পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে—তারা কি সীমান্তে অসহায় মানুষদের ফিরিয়ে দেবে, নাকি জনঅসন্তোষ উপেক্ষা করে মানবিক দায়িত্ব পালন করবে?

পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি

রাশিয়া ও তার মিত্র বেলারুশ ২০২১ সালেই এ ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ কৌশল ব্যবহার করেছিল। বেলারুশ তখন মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার আশ্রয়প্রার্থীদের পোল্যান্ড সীমান্তে ঠেলে দিয়েছিল, যা মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছিল।
এখন সেই কৌশল আরও বড় পরিসরে প্রয়োগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আতঙ্কই এখন পুতিনের অস্ত্র

ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা শুধু সামরিক নয়, মনস্তাত্ত্বিকও। আতঙ্ক সৃষ্টি করে ইউক্রেনের জনগণকে পশ্চিমের দিকে ঠেলে দেওয়া—এটাই এখন ক্রেমলিনের কৌশল।



নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ