শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে কয়েক সেকেন্ডের শক্তিশালী ভূমিকম্পে গাজীপুরজুড়ে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ আতঙ্ক। উঁচু ভবন দুলতে শুরু করলে ঘরবাড়ি, অফিস, বাজার ও শিল্পকারখানা থেকে মানুষ দ্রুত খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসে। এ সময় বিভিন্ন কারখানায় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে বহু শ্রমিক আহত হন। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোয় মোট ২৫২ জন আহত ব্যক্তি ভর্তি হয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগই পোশাকশ্রমিক।
টঙ্গী এলাকার পিনাকী গার্মেন্টস ও ফ্যাশন প্লাস গার্মেন্টসে ভূমিকম্পের সময় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে গেট ও সিঁড়িতে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে অনেক শ্রমিক পদদলিত হন। অনেকে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং আতঙ্কে কেউ কেউ জ্ঞান হারান। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. ওহেদুজ্জামান জানান, ভবন থেকে বের হতে গিয়ে বেশ কিছু শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাসন থানার কোজিমা লিরিক, লীবাস টেক্সটাইল লিমিটেড, হাসান তানভীর, ডে ফ্যাশন, কোস্ট টু কোস্টসহ শ্রীপুরের ডেনিম্যাক ডেনিম লিমিটেড কারখানায় একই ধরনের দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইশরাত জাহান (এনি) বলেন, ভূমিকম্পের ১০ মিনিটের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে আসে, যাঁদের অধিকাংশই পোশাকশ্রমিক। অনেকেই আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। গুরুতর আহতদের অন্যান্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুরের কেওয়া পূর্বখণ্ড গারোপাড়া এলাকার ডেনিমেক কারখানায় তাড়াহুড়ো করে নিচে নামতে গিয়ে দেড় শতাধিক শ্রমিক আহত হন। এর মধ্যে ১৩০ জনকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য আরও ২০ জনকে ঢাকা ও ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ৭৭ জন সেখানে চিকিৎসাধীন।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন মামুনুর রহমান জানান, টঙ্গী হাসপাতালে ৮৫ জন এবং গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯০ জন ভর্তি আছেন। অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শ্রীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৭ জন রোগী এখনও ভর্তি আছেন; বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।