হাত-পা সব সময় ঠান্ডা অনুভব করা সাধারণ হলেও কখনো কখনো এটি গুরুতর সমস্যার সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে যদি সঙ্গে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা আঙুলের রং পরিবর্তন দেখা দেয়।
হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার সাধারণ কারণ
-
রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া:
রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে শরীরের দূরের অংশ যেমন হাত-পা প্রথমে ঠান্ডা অনুভব করে। কারণ হতে পারে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, হৃদরোগ বা হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা। -
অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা):
হিমোগ্লোবিন কমে গেলে রক্তের অক্সিজেন বহনের ক্ষমতা কমে। ফলে হাত-পা ঠান্ডা হয়, সঙ্গে থাকতে পারে ক্লান্তি, মাথাঘোরা এবং ফ্যাকাশে ত্বক। -
থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়া (হাইপোথাইরয়েডিজম):
থাইরয়েড শরীরের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণ করে। হরমোন কমলে তাপ উৎপাদন কমে যায়। উপসর্গ হিসেবে ওজন বৃদ্ধি, ঘুম ঘুম ভাব, চুল পড়া ও ত্বক শুষ্ক হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। -
ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি:
ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব, জ্বালাপোড়া বা সংবেদন কমে যেতে পারে। -
ভিটামিনের ঘাটতি:
বিশেষ করে বি১২, আয়রন ও ফলেটের অভাবে স্নায়ু দুর্বল হয়ে যায় এবং রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। -
ধূমপান বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন:
নিকোটিন ও ক্যাফেইন রক্তনালি সংকুচিত করে, ফলে হাত-পা ঠান্ডা হয়। -
রেনোডস ডিজিজ:
ঠান্ডা বা মানসিক চাপের কারণে আঙুলের রক্তনালি হঠাৎ সংকুচিত হয়ে যায়। আঙুল সাদা বা নীলচে হয়ে যেতে পারে। -
স্ট্রেস বা ঘুমের সমস্যা:
স্ট্রেস হরমোন রক্ত সঞ্চালনে প্রভাব ফেলে, হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার প্রবণতা বাড়ায়।
চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি অবস্থার লক্ষণ
-
হাত-পা সব সময় বরফের মতো ঠান্ডা থাকা
-
আঙুলের রং সাদা বা নীল হওয়া
-
ঝিনঝিন, অবশ ভাব, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা
-
অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মাথাঘোরা
-
ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের ইতিহাস থাকা
হালকা সমস্যার জন্য করণীয়
-
নিয়মিত ব্যায়াম করে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করা
-
গরম পানিতে হাত-পা ভিজানো
-
পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাদ্য গ্রহণ
-
ভিটামিন ই, আয়রন, ফলেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
-
ধূমপান ও অতিরিক্ত চা/কফি কমানো
হাত-পা ঠান্ডা হওয়া হালকা সমস্যা মনে হলেও এর পেছনে থাকা সম্ভাব্য রোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। নিয়মিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।