google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাদারীপুরে শৌচাগার থেকে উদ্ধার নবজাতক হাসপাতালে নিরাপদে, দত্তক নিতে আগ্রহী ২০ দম্পতি

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Dec 4, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: মাদারীপুরে-শৌচাগার-থেকে-উদ্ধার-নবজাতক-হাসপাতালে-নিরাপদে,-দত্তক-নিতে-আগ্রহী-২০-দম্পতি ছবির ক্যাপশন: মাদারীপুরে-শৌচাগার-থেকে-উদ্ধার-নবজাতক-হাসপাতালে-নিরাপদে,-দত্তক-নিতে-আগ্রহী-২০-দম্পতি
ad728

মাদারীপুরে শৌচাগারের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক বর্তমানে জেলা হাসপাতালের নবজাতকের বিশেষায়িত সেবাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। পুলিশের পাহারায় হাসপাতালের নার্সরা শিশুটির বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন। নবজাতকের মা–বাবাকে খুঁজছে পুলিশ। এদিকে শিশুটিকে দত্তক নিতে অন্তত ২০ নিঃসন্তান দম্পতি উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেছেন।

গত মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুর শহরের বেসরকারি চৌধুরী ক্লিনিকের শৌচাগারের ভেতর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সাথী বেগম। পরে তাকে জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মনিরুজ্জামান জানান, নবজাতকের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হলেও এখনো তাকে নিবিড় পরিচর্যার মধ্যে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে এখনো ফিডিং শুরু করা যায়নি, তাই শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না। একজন মাকে পাওয়া গেলে শিশুটি দ্রুত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।’

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক বিশ্বজিৎ বৈদ্য জানান, ২০টির বেশি পরিবার শিশুটিকে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আজ সদর উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভায় শিশুটির বিষয়ে দুটি সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে—শিশুটিকে ফরিদপুরের শিশু নিবাসে পাঠানো অথবা বিকল্প পরিবারে দত্তক দেওয়া।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা প্রবেশন কর্মকর্তা শেখ নাহিয়ান ওয়াহিদ বলেন, শিশুটির চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। শিশুটির ভবিষ্যৎ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপজেলা প্রশাসন অথবা আদালত নেবে। এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

ঘটনাটি মাদারীপুরজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। নবজাতকটি কন্যাশিশু হওয়ায় অনেকে এর পেছনে সমাজের নারীবঞ্চনার বিষয়টি দেখছেন। সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য আঞ্জুমান জুলিয়া মন্তব্য করেন, ‘শিশুটি যদি পুত্রসন্তান হতো, হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না। সমাজে নারীরা এখনো অবহেলিত—এটিই তার প্রমাণ।’

এদিকে নবজাতকের মা–বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ক্লিনিকের শৌচাগারে সিসিটিভি না থাকায় তদন্তে গতি আসছে না। আশপাশের এলাকার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

শিশুটির ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা ও দত্তক প্রক্রিয়া নিয়ে এখন জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ