google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: নারীপ্রধান গল্পে নতুন ধারা: বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের সিনেমা
দীর্ঘদিন ধরে উপমহাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচলিত ধারণা ছিল—নারীকেন্দ্রিক সিনেমার বাজার নেই, সাধারণ দর্শক তা দেখতে চান না। কিন্তু গত এক বছরে সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে একের পর এক নারীপ্রধান চলচ্চিত্র। বাস্তবঘেঁষা গল্প, শক্তিশালী নির্মাণ ও সমাজ–মনস্তত্ত্বের গভীর প্রতিফলন—সব মিলিয়ে নারীকেন্দ্রিক সিনেমা এখন ঢালিউডে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ‘প্রিয় মালতী’ দিয়ে শুরু হয় এই ধারা। শঙ্খ দাশগুপ্তের সিনেমাটি বাস্তবের গল্পকে নিখুঁতভাবে পর্দায় তুলে ধরে। মেহজাবীন চৌধুরীর অভিনয়, নির্মাণ, সিনেমাটোগ্রাফি—সব মিলিয়ে এটি বছরের অন্যতম সেরা সিনেমা। একইভাবে মাকসুদ হোসাইনের ‘সাবা’ মা-মেয়ের সম্পর্ক ও মানসিক দ্বন্দ্বকে নতুনভাবে দেখিয়েছে, যা দেশের সাধারণ বাণিজ্যিক ছবির চেয়ে অনেক এগিয়ে।
লীসা গাজীর ‘বাড়ির নাম শাহানা’ নারীর আত্মবিশ্বাস ও সাফল্যের উদ্যাপন, আর পিপলু আর খানের ‘জয়া আর শারমীন’ মৃত্যুর মুখে মানবিকতার গল্প। সানী সানোয়ারের ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’ নারী চরিত্রের শক্ত অবস্থানকে বাণিজ্যিক ধারার মধ্যেই তুলে ধরে নতুন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে।
‘বাড়ির নাম শাহানা’-এর নির্মাতা লীসা গাজী মনে করেন, নারীকেন্দ্রিক সিনেমা মানেই কান্না বা দুঃখের গল্প নয়। এখন নারীরা জটিল, সাহসী, স্বপ্নচারী—এই বাস্তব চরিত্রগুলোই সিনেমায় ফুটে উঠছে।
অন্যদিকে শঙ্খ দাশগুপ্ত বলছেন, ‘নারীপ্রধান গল্প মানেই এখন আর সামাজিক বার্তা নয়, বরং সময় ও সম্পর্কের প্রতিফলন।’
‘বাড়ির নাম শাহানা’ এ বছর বাংলাদেশ থেকে অস্কারের প্রাথমিক মনোনয়নের জন্য পাঠানো হয়েছে, যা নিজেই এক বড় অর্জন। একইভাবে ‘সাবা’ টরন্টোসহ ১০টির বেশি আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। জয়া আহসান অভিনীত ‘ফেরেশতে’ প্রদর্শিত হয়েছে ইরানের ফজর উৎসবে।
নারীশক্তির গল্প বলার পাশাপাশি নির্মাতারা একে অপরের কাজের প্রশংসা করছেন। মেহজাবীন পছন্দ করেছেন ‘জয়া আর শারমীন’ ও ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’, আর আজমেরী হক বাঁধনের ভালো লেগেছে ‘প্রিয় মালতী’ ও ‘বাড়ির নাম শাহানা’।
যদিও এখনো দর্শকসংখ্যা প্রত্যাশিত নয়, তবু নির্মাতারা আশাবাদী। বাঁধন বলেন, “নারী প্রযোজক ও নির্মাতারা এগিয়ে এলে এই ধারার সিনেমা সমাজে বৈষম্য দূর করতে পারবে।”
শঙ্খ দাশগুপ্তের মতে, “নারীপ্রধান গল্প এখন আর সাহসিকতা নয়, বরং সমাজের স্বাভাবিক প্রতিচ্ছবি।”
বাংলাদেশি সিনেমার এই নতুন তরঙ্গে নারী শুধু পর্দায় নয়, গল্প ও নির্মাণেও হয়ে উঠছেন কেন্দ্রবিন্দু—যা দেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতিকে দিচ্ছে এক নতুন পরিচয়।