যেদিকে চোখ যায়, শুধু পানি আর পানি। আটলান্টিক মহাসাগরে জার্মানির গবেষণা ও বরফভাঙা জাহাজ পোলারস্টার্ন ভেসে চলেছে। এই জাহাজকে দেখা যায় একদল তরুণ গবেষকের ‘ভাসমান ক্লাসরুম’ বা ল্যাবরেটরিও হিসেবে। এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে শেখার অনন্য এক অভিজ্ঞতা।
সমুদ্র গবেষণার হাতেকলমে প্রশিক্ষণ নিতে জাহাজটিতে আছেন ২০ দেশের ২০ জন তরুণ গবেষক। তিন হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই করা এই গবেষকদের মধ্যে একজন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবিত হোসেন, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের থিসিসের কাজ করছেন।
জাতিসংঘের ‘সমুদ্রবিজ্ঞান দশক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পোলারস্টার্নে ‘ভাসমান গ্রীষ্মকালীন গবেষণা বিদ্যালয়’ পরিচালনা করছে জার্মানির হেলমহোল্টজ সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড মেরিন রিসার্চ (AWI)। সহযোগী হিসেবে রয়েছে জার্মানির আলফ্রেড ভেগেনার ইনস্টিটিউট, পোগো, জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন, আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব গলওয়ে ও ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের চেয়ার অব ক্লাইমেট সায়েন্সেস।
বাংলাদেশি আরও একজন গবেষক, সুব্রত সরকার, শাবিপ্রবির সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, পঞ্চমবারের এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।
প্রশিক্ষণ শুরু হয় জার্মানির ব্রেমারহ্যাভেন বন্দর থেকে ১৩ নভেম্বর, এবং ১২ ডিসেম্বর নামিবিয়ার ওয়ালভিস বে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজে সমুদ্রপথে গবেষণা, ক্লাস, পরীক্ষা ও সমুদ্রের তলদেশের জরিপসহ বিভিন্ন কাজ করছেন গবেষকেরা।
সাবিত হোসেন বলেন, “আমাদের পাঁচটি মডিউলে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে—সমুদ্রবিজ্ঞান, সমুদ্র মডেলিং, পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি, জলবায়ু পরিবর্তন, বিজ্ঞান প্রচার ও দর্শন। হাতেকলমে সিটিডি রোসেট পরিচালনা, প্ল্যাঙ্কটন স্যাম্পলিং, আন্ডারওয়ে প্রোফাইলিং ও জলবায়ুসংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করছি। আন্তর্জাতিক গবেষকদের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে বৈশ্বিক মান, নৈতিকতা ও টিমওয়ার্ক শিখেছি। বাংলাদেশের উপকূলীয় সমস্যা মোকাবিলায় এই জ্ঞান কাজে লাগবে।”
প্রশিক্ষক সুব্রত সরকার জানান, “ভাসমান গবেষণাপদ্ধতি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। তরুণ গবেষকেরা মাসব্যাপী হাতেকলমে সবকিছু শিখছেন। নিজ দেশে গিয়ে তাঁরা সমুদ্র গবেষণার পথিকৃৎ হিসেবে ভূমিকা রাখবেন।”
এই প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের তরুণ সমুদ্রবিজ্ঞানীদের জন্য হাতেকলমে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।