google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করলেন ট্রাম্প: ‘অর্থহীন আলোচনায় সময় নষ্ট নয়’
ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত মুখোমুখি বৈঠক স্থগিত করেছে হোয়াইট হাউস। পরে ট্রাম্প নিজেই বলেন, তিনি কোনো ‘অর্থহীন বৈঠকে’ সময় নষ্ট করতে চান না।
গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, আলোচনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো বর্তমান সমররেখায় যুদ্ধবিরতিতে রাশিয়ার অস্বীকৃতি। এর আগে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, “নিকট ভবিষ্যতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।” অথচ গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, দুই সপ্তাহের মধ্যেই বুদাপেস্টে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রস্তাবের মৌলিক পার্থক্য সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়েছে। ফলে দুই নেতার সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
গত আগস্টে আলাস্কায় শেষবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্প ও পুতিন, তবে ওই বৈঠকও ফলপ্রসূ হয়নি। এবার বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তকেও অনেকে দেখছেন ‘অর্থহীন কূটনৈতিক প্রদর্শনী’ এড়ানোর কৌশল হিসেবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে প্রস্তুতিমূলক বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, “দুই মন্ত্রীর মধ্যে ইতিমধ্যেই গঠনমূলক ফোনালাপ হয়েছে, আলাদা বৈঠকের প্রয়োজন নেই।”
গত সোমবার ট্রাম্প ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের প্রস্তাবিত এক যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে সমর্থন করেন। এতে বর্তমান সমররেখায় যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানানো হয়।
ট্রাম্প বলেন, “যেভাবে আছে সেভাবেই সীমানা টেনে দাও। সমররেখায় থামো, ঘরে ফিরে যাও, মানুষ হত্যা বন্ধ করো।”
কিন্তু রাশিয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, রাশিয়াকে এ প্রস্তাব বারবার দেওয়া হলেও তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত—ইউক্রেনীয় সেনাদের পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলো থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারই মস্কোর শর্ত।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ বলেন, “রাশিয়া কেবল দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শান্তিতে আগ্রহী।” তাঁর মতে, বর্তমান সমররেখায় যুদ্ধবিরতি মানে কেবল সাময়িক বিরতি, প্রকৃত সমাধান নয়।
একই দিনে ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো আলোচনা শুরু হওয়া উচিত বর্তমান সমররেখায় সংঘাত থামানোর মধ্য দিয়ে।” তাঁরা অভিযোগ করেন, “রাশিয়া শান্তির ব্যাপারে আন্তরিক নয়।”
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ট্রাম্প ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে চাপ দিয়েছিলেন।
তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেন দনবাসের কোনো অংশ ছাড়বে না। তাঁর মতে, রাশিয়া ওই অঞ্চলগুলো দখল করে পরবর্তী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।