google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান–আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেল

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 30, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান–আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেল ছবির ক্যাপশন: ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান–আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেল
ad728

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত কমানোর উদ্দেশ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত চার দিনের শান্তি আলোচনা ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনার অচলাবস্থার জন্য আফগান প্রতিনিধিদলকেই দায়ী করা হয়েছে

দোহা থেকে ইস্তাম্বুল—কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ

কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা দুই দেশের মধ্যে দোহায় হওয়া প্রথম দফার বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হলো।
প্রথম বৈঠকের পর ১৯ অক্টোবর সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, তবে সোমবার পাকিস্তান অভিযোগ করে যে আফগান প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদের মূল দাবি থেকে সরে এসেছে—বিশেষত আফগান তালেবান (টিটিপি)-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি থেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আফগান প্রতিনিধিদল কাবুল থেকে নতুন নির্দেশনা পাওয়ায় আলোচনাগুলো জটিল হয়ে পড়ে।’

পারস্পরিক দোষারোপ

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্টে আফগান প্রতিনিধিদলকে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেন, অন্যদিকে কাবুল কর্তৃপক্ষ পাল্টা অভিযোগ করেছে যে পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা ‘সমন্বয়হীন’, ‘অস্পষ্ট যুক্তি দিয়েছে’ এবং ‘বারবার আলোচনা ছেড়ে চলে গেছে’।

আলোচনায় আফগান পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক উপমন্ত্রী হাজি নাজিব। পাকিস্তানের পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

উত্তেজনা ও সহিংসতা বৃদ্ধি

সম্প্রতি সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের সেনা ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানকে আফগান তালেবানের প্রধান সমর্থক হিসেবে দেখা হলেও ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে তীব্র অবনতি ঘটেছে।

মূলত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)—যারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে এবং আফগানিস্তানে আশ্রয় নিচ্ছে বলে অভিযোগ ইসলামাবাদের।

টিটিপি ও মতাদর্শগত টানাপোড়েন

২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত টিটিপি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে আসছে। তারা পাকিস্তানের কারাগারে আটক সদস্যদের মুক্তিখাইবার পাখতুনখাওয়া অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন দাবি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগান তালেবান ও টিটিপির মধ্যে মতাদর্শগত সম্পর্ক থাকায় কাবুল সরকারের জন্য টিটিপির বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া কঠিন।

মৃত্যু ও সহিংসতার পরিসংখ্যান

২০২৪ সালকে পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বছরগুলোর একটি বলা হচ্ছে। এ বছর ২,৫০০ জনের বেশি হতাহত হয়েছেন, এবং ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়েই সংখ্যাটি আগের বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে।
আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা (ACLED) জানিয়েছে, গত এক বছরে টিটিপি অন্তত ৬০০টি হামলায় যুক্ত ছিল

কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও যুদ্ধের আশঙ্কা

যদিও কাতার, তুরস্ক ও চীন মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছে, বিশ্লেষকদের মতে গভীর অবিশ্বাস ও পরস্পরবিরোধী অগ্রাধিকারের কারণে স্থায়ী সমঝোতা কঠিন।
সাবেক সাংবাদিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক বাকির সাজ্জাদ সৈয়দ বলেন, “আফগান তালেবান মতাদর্শগত কারণে টিটিপিকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।”

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ সম্প্রতি আফগান ভূখণ্ডে টিটিপির ঘাঁটিতে বিমান হামলার হুমকি দিয়েছেন।

সম্ভাব্য পরিণতি

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যদি আফগান সীমান্তে সামরিক অভিযান চালায়, তাহলে আফগান জনগণের মধ্যে পাকিস্তানবিরোধী মনোভাব আরও বৃদ্ধি পাবে
সাংবাদিক সামি ইউসুফজাই সতর্ক করেছেন, “যদি তালেবান নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেন, তাহলে তরুণরা ব্যাপকভাবে যোগ দিতে পারে—যা দুই দেশের জন্যই ভয়াবহ হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একমাত্র লাভবান হবে টিটিপি, যারা এই অস্থিরতার সুযোগে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা আরও তীব্র করতে পারে


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ