ভারতের রাজধানী দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত ও ২০ জন গুরুতর আহত হলেও এখনো পর্যন্ত পাকিস্তানের দিকে আঙুল তোলেনি ভারত সরকার। এমন ঘটনা সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল, যেখানে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরও দিল্লি ইসলামাবাদকে দায়ী করেনি।
সরকার বিস্ফোরণকে ‘সন্ত্রাসবাদী ও দেশবিরোধী শক্তির কাজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও সেটি সীমান্তপারের সন্ত্রাস কি না—সে বিষয়ে নীরব রয়েছে। সন্দেহের তির জইশ–ই–মোহাম্মদের দিকে থাকলেও সরকারিভাবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে না।
সাবধানী মোদি সরকার
বিজেপি সরকার এই প্রথম এতটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কারণ, ঘটনাটিকে যদি ‘অ্যাক্ট অব ওয়ার’ বলা হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পুনরায় শুরু করতে হবে—যে অভিযান ২০২৫ সালের মে মাসে স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত সেই ঝুঁকি নিতে পারছে না।
বদলে যাওয়া ভূরাজনীতি
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্পর্কের নতুন ঘনিষ্ঠতা ভারতের ওপর চাপ তৈরি করেছে। পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় দিল্লি এখন কূটনৈতিকভাবে বিপাকে।
ভারত–মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি স্থবির, আর নতুন সংঘাত শুরু হলে ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।
সমালোচনার মুখে সরকার
বিরোধী দল **কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (এএপি)**সহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—কেন মোদি সরকার হামলাকে যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছে না এবং পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করছে না।
মোদি সরকার এখন অপরাধীদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও, রাজনৈতিকভাবে রক্ষণের মোডে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টালের নির্বাহী পরিচালক অজয় সাহনি বলেন, “ভারত নিজের ঘোষিত কৌশলেই ফেঁসে গেছে। সন্ত্রাসী হামলাকে ‘যুদ্ধ’ বলে ঘোষণা করেছিল, কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগের কোনো পরিকল্পনা না থাকায় এখন সরকার অসহায়।”
দিল্লি বিস্ফোরণের পর জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) তদন্ত শুরু করেছে এবং ইউএপিএ আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। তবে এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এখনো ভারত সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।