প্রথম আলোর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের খণ্ডিত অংশ বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সম্প্রতি দেখা গেছে, প্রতিবেদনটির নির্দিষ্ট অংশ কেটে বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন ও থাম্বনেইল যুক্ত করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে প্রচার করা হচ্ছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো প্রকাশ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘জমির বিরোধে খুন, দুর্ঘটনায় মৃত্যু, তবু তাঁরা জুলাই শহীদ’, যেখানে দেখা যায়—সরকারের প্রকাশিত জুলাই শহীদদের তালিকায় এমন কিছু নাম আছে, যাঁদের মৃত্যু সরকার নির্ধারিত সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।
কিন্তু সম্প্রতি ‘বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক’ নামে একটি ফেসবুক পেজে প্রতিবেদনটির অংশবিশেষ বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়। ভিডিওটির ক্যাপশন ও থাম্বনেইলে লেখা হয়, ‘মানুষ হত্যার গুজব ছড়িয়ে হয়েছিল জুলাই আন্দোলন’, যা প্রতিবেদনের প্রকৃত বক্তব্য নয়। এই বিভ্রান্তিকর ভিডিওটি সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ।
যদিও পরে ভিডিওটি তার পেজ ও বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক থেকে সরানো হয়, তবু তা বিভিন্ন পেজে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ জানায়, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিবেদনের খণ্ডিত অংশ বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। তাদের প্রতিবেদনে কোথাও “মানুষ হত্যার গুজব ছড়িয়ে জুলাই আন্দোলন হয়েছে” — এমন কোনো বক্তব্য নেই। বরং সেখানে তুলে ধরা হয়েছে, সরকারের প্রকাশিত তালিকায় যাঁদের মৃত্যু শহীদের সংজ্ঞায় পড়ে না, তাদের নাম।
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে, শহীদ হিসেবে গণ্য হবেন তাঁরা, যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বাহিনী বা শাসক দলের সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত আটজনের নাম সরকার ইতিমধ্যেই বাদ দিয়েছে। এখন তালিকাভুক্ত শহীদের সংখ্যা ৮৩৪ জন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন প্রকাশের পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ওই ৫২ জনের তথ্য পুনরায় যাচাই শুরু করেছে। এ জন্য সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যাচাইয়ে বলা হয়েছে—উল্লেখিত ব্যক্তিরা আদৌ জুলাই আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী সংগ্রামে অংশ নিয়ে আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে।
চিঠির সঙ্গে প্রথম আলোর প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট ৫২ জনের তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে।