google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ক্ষুদ্রঋণ খাতে প্রথমবার বসছে স্বতন্ত্র পরিচালক: নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার
ব্র্যাক, আশা, টিএমএসএস, বুরো বাংলাদেশ, উদ্দীপনসহ দেশের বড় ক্ষুদ্রঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) ইতোমধ্যে আইন ও বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে, যেখানে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালক রাখার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
বর্তমানে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে সদস্যসংখ্যা ৫ থেকে ১০ জন। নতুন বিধান কার্যকর হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালক রাখতে হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে এমআরএর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানা গেছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই এমন প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এনজিও খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ আরও বাড়বে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে।
একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। তাঁর মতে, “এই পদক্ষেপ ক্ষুদ্রঋণ খাতের জন্য ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ব্যাংক খাতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়; সেখানে অনিয়ম বরং বেড়েছে।”
এমআরএর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ক্ষুদ্রঋণ খাতে সুশাসন নিশ্চিত ও পরিবারতন্ত্র কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “স্বতন্ত্র পরিচালক প্রতিষ্ঠানগুলোই নিয়োগ দেবে, এমআরএ শুধু প্রক্রিয়াটি তদারক করবে। সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।”
খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, স্বতন্ত্র পরিচালক হতে হলে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অন্তত ১০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। প্রাধান্য দেওয়া হবে আর্থিক খাতের অভিজ্ঞদের। বয়স হতে হবে ৩৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে পারবেন না।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এভাবে মূলত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, যা এনজিও খাতে অযাচিত প্রভাব বাড়াতে পারে।
২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত এমআরএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭২৪টি। মোট গ্রাহক প্রায় ৪ কোটি ১৫ লাখ এবং কর্মরত লোকসংখ্যা ২ লাখ ২৩ হাজার। ঋণ বিতরণের পরিমাণ ২ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা।
ক্ষুদ্রঋণ খাতের নেটওয়ার্কিং সংস্থা ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ) এ উদ্যোগকে ‘ক্ষতিকর, বেআইনি ও অপ্রয়োজনীয়’ বলে মন্তব্য করেছে। তারা অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে চিঠি দিয়ে হস্তক্ষেপ চেয়েছে। একইভাবে ইনাফি (INAFI) সংস্থাও এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করার দাবি জানিয়েছে।
নতুন বিধিমালায় সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে সিইও হতে হলে অন্তত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা ও ৫ বছর ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বয়স হতে হবে ৪০ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে, এবং নিয়োগের পর এক মাসের মধ্যে এমআরএর অনাপত্তিপত্র নিতে হবে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “ক্ষুদ্রঋণ খাতে সুশাসন ও জবাবদিহি অবশ্যই দরকার, কিন্তু ব্যাংক খাতের মতো মডেল এখানে কার্যকর হবে কি না, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। এতে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।”
সংক্ষেপে:
সরকারের নতুন উদ্যোগে ক্ষুদ্রঋণ খাতে প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিধান আসছে। লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো হলেও, খাতের সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা—এটি সরকারি প্রভাব বাড়াবে এবং স্বাধীনতা সীমিত করবে।