google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ভালো কর্মী হয়েও পদোন্নতি না পাওয়ার কারণ: নেতৃত্ব নয়, কেবল কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধতা
মিড লেভেল বা মাঝারি পর্যায়ের ম্যানেজারদের বড় অংশ সারাক্ষণ কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন—মিটিং, রিপোর্ট, ডেডলাইন, টিম ম্যানেজমেন্ট, সমস্যা সমাধান ইত্যাদি। তাঁরা বসের জীবন সহজ করেন, সময়মতো কাজ শেষ করেন, অফিসের স্থিতিশীলতা বজায় রাখেন।
কিন্তু ফলাফল? তাঁরা হয়ে যান ‘অপরিহার্য’, কিন্তু একইসঙ্গে ‘অদৃশ্য’। সবাই জানে তাঁদের ছাড়া কাজ থেমে যাবে, কিন্তু কেউ ভাবেন না—তাঁরা নেতৃত্বও দিতে পারেন।
এই কারণেই অনেক দক্ষ কর্মীও পদোন্নতি পান না। কারণ, পদোন্নতি কেবল ভালো কাজের স্বীকৃতি নয়, বরং ‘ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা’ দেখানোর পুরস্কার।
উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব কেবল কেপিআই বা রঙিন প্রেজেন্টেশন দেখে সিদ্ধান্ত নেন না। তাঁরা দেখেন, কর্মী কীভাবে আলোচনাকে এগিয়ে নিচ্ছেন।
যাঁরা উন্নতি পান, তাঁরা বলেন না, “কাজটা শেষ।” বরং বলেন, “এই কাজটা আমাদের কৌশলের সঙ্গে কতটা খাপ খাচ্ছে, এরপর কী হতে পারে?”
এটাই স্ট্র্যাটেজিক ভিজিবিলিটি, যেখানে আপনি শুধু কাজ করেন না, বরং দিকনির্দেশনাও দেন।
আমাদের অনেকেই শিখেছি—“বেশি বাড় বেড়ো না।” এই মানসিকতা ক্যারিয়ারে বড় বাধা। অফিসে নেতৃত্ব আসে ঝুঁকি নেওয়ার মধ্য দিয়ে, সাহসী ধারণা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে।
আপনার প্রস্তাব যদি কখনো কারও মনে না আনে “বাহ্, সাহসী আইডিয়া!”, তাহলে বুঝবেন আপনি এখনো কমফোর্ট জোনে আছেন।
ঝুঁকি নেওয়া মানে বেপরোয়া হওয়া নয়, বরং নতুন পথ দেখানো, আলোচনায় প্রভাব ফেলা এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখা।
বসেরা জানতে চান না আপনি কত পরিশ্রম করেছেন; তাঁরা জানতে চান—
এতে গ্রাহকের লাভ কতটা?
খরচ কতটা কমবে?
কোম্পানির ভবিষ্যৎ কৌশলে কী অবদান রাখছে?
আপনার রিপোর্ট যদি এসব প্রশ্নের উত্তর না দেয়, তাহলে যত সুন্দরই হোক, তা গুরুত্ব পাবে না।
বরং আপনি যদি বলেন, “এই কাজ বছরে আট কোটি টাকা সাশ্রয় করবে,” তখনই আপনি মনোযোগ কাড়বেন।
এটাই ব্যবসার ভাষা, নেতৃত্বের ভাষা।
বাস্তবতা হলো, কেউ আপনার পক্ষে কথা না বললে আপনি তালিকায়ও থাকবেন না। যিনি পদোন্নতি পান, সাধারণত তাঁর পেছনে থাকে এক বা একাধিক সিনিয়র সমর্থক, যাঁরা বলেন—“ও কঠিন সময়েও স্থির থাকে।”
তাই শুধু ম্যানেজারের সঙ্গে নয়, সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ুন। ক্রস-ফাংশনাল প্রজেক্টে অংশ নিন, পরামর্শ নিন, আস্থা অর্জন করুন।
এটাই পাওয়ার অ্যালাইনমেন্ট, তোষামোদ নয়।
আপনি হয়তো ভাবছেন, “আমি যথেষ্ট ভালো নই।”
আসলে আপনি ভালো, কিন্তু দৃশ্যমান নন। আপনি কাজ করেন, কিন্তু নেতৃত্ব দেখান না।
তাই এখনই সময়—
অপেক্ষা বন্ধ করুন, কাজের মাধ্যমে নিজের দাবি তুলুন, নেতার মতো চিন্তা ও কাজ করুন।
প্রমাণ করুন, আপনি শুধু ভালো কর্মী নন, বরং আগামী দিনের নেতা।