google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: মেডিকেলে প্রথম হওয়া জাহাঙ্গীর আলমের প্রস্তুতির গল্প
জাহাঙ্গীর আলম প্রথম হওয়ার খবর পেয়ে নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ওয়েবসাইটে ‘১’ লেখা দেখার পরও একবারে বিশ্বাস হয়নি, বারবার দেখার পরই নিশ্চিত হয়ে যায় যে তিনি মেডিকেলে প্রথম হয়েছেন। কোচিংয়ের সময় থেকেই তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে ভালো অবস্থান পাবেন, প্রথম না হলেও।
আত্মবিশ্বাস তৈরির সূত্র হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি প্রচুর পরীক্ষা দিয়েছি। প্রতিযোগিতামূলক সব পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। শুধু অফলাইনেই ১২০-১৩০টি পরীক্ষা দিয়েছি। এত পরীক্ষা দেওয়ার কারণে পরীক্ষাভীতি ছিল না, আত্মবিশ্বাস জন্মে গিয়েছিল।”
তিনি নিজের আলাদা হওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, “আমি পড়াগুলো শুধু রিডিং না করে বোঝার চেষ্টা করেছি। কোন জায়গায় সমস্যা হতে পারে, কোন শব্দ মনে রাখতে হবে, কোন জিনিস প্রশ্নে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে—সব খেয়াল করতাম। বইয়ের মধ্যে দাগ দিয়ে রাখতাম। পরীক্ষার প্যাটার্ন সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় অপশন দেখলেই বুঝতাম কীভাবে প্রশ্ন ঘুরানো হয়েছে।”
জাহাঙ্গীর আলম প্রথম বর্ষ থেকেই ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কিত পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। একাডেমিকের পাশাপাশি মেডিকেলের প্রশ্নব্যাংক দেখতেন, অধ্যায় পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নও সমাধান করতেন এবং ভবিষ্যতে আসতে পারে এমন প্রশ্নের ধরন বিশ্লেষণ করতেন। ভর্তি পরীক্ষার আগে তিনি অনলাইনে পরীক্ষা দিতেন, তবে মোবাইল ব্যবহার সীমিত রাখতেন যাতে সময় নষ্ট না হয়।
পরীক্ষার মাত্র এক মাস আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও তিনি ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেছিলেন। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আল্লাহ অসুখ দিয়েছেন, এর মধ্যেই হয়তো ভালো কিছু আছে। ওই ১০-১২ দিনে যা পড়তাম, হয়তো পরীক্ষায় আসত না।”
ছোটদের জন্য পরামর্শে তিনি বলেন, “ভালো করতে চাইলে একাডেমিক ভিত্তি মজবুত করতে হবে। একাডেমিক জ্ঞান ভালো থাকলে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি গোছানো হয় এবং ভালো ফলের সম্ভাবনা বাড়ে।”
জাহাঙ্গীর আলমের গল্প অধ্যবসায়, সুসংগঠিত প্রস্তুতি ও ইতিবাচক মানসিকতার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।