google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: শিশুর কাশিতে কফ সিরাপ নয়, চিকিৎসকের পরামর্শই নিরাপদ পথ
শীতের আগমনে শিশুর সর্দি-কাশি বেড়ে যায়। ভোরের দিকে বইতে থাকা হিমেল হাওয়া এই সময়টায় শিশুদের ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়। কাশতে কাশতে কষ্ট পেলে মা–বাবারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, দ্রুত আরাম পেতে শিশুকে কফ সিরাপ খাওয়ান অনেকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে কাশির সিরাপ খেয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—কাশির সিরাপ কি আদৌ শিশুদের জন্য নিরাপদ?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. ফারাহ দোলা বলেন, “কাশির সিরাপে দীর্ঘদিন ধরেই বিষাক্ত রাসায়নিক থাকার সন্দেহ করা হচ্ছিল।” আফ্রিকা, উজবেকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে এসব সিরাপ সেবনে শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। পরীক্ষায় এসব সিরাপে ডাইইথিলিন গ্লাইকল নামের বিষাক্ত রাসায়নিক পাওয়া গেছে, যা কিডনি বিকল করে দিতে পারে।
বাজারে প্রচলিত কফ সিরাপগুলো সাধারণত অ্যান্টিহিস্টামিন, ডিকনজেস্ট্যান্ট ও এক্সপেক্টোরেন্টের মিশ্রণ, যার সঙ্গে চিনি ও রঙ যোগ করা হয়। এগুলোর ইতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ খুবই কম, বরং শিশুদের জন্য তা ক্ষতিকর হতে পারে।
অনেক অভিভাবক ঘন ঘন সর্দি-কাশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে সিরাপ কিনে খাওয়ান। কেউ কেউ আবার প্রাপ্তবয়স্কদের কফ সিরাপের ডোজ কমিয়ে শিশুকে দেন, যা বিপজ্জনক।
বেশির ভাগ সিরাপ “ওভার দ্য কাউন্টার” (OTC) ওষুধ হিসেবে সহজলভ্য হলেও, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস জানিয়েছে—
চার বছরের নিচের শিশুদের এসব সিরাপ দেওয়া একেবারেই নিষেধ।
চার থেকে ছয় বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে দেওয়া যাবে।
সাত বছর বয়স থেকে কফ সিরাপ দেওয়া গেলেও ওষুধ ও ডোজ হতে হবে সঠিক।
কাশির সিরাপের ফলে শিশুর বমি, খিঁচুনি, অতিরিক্ত ঘুম, শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা, দুর্বলতা ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবনে শিশুর প্রাণঘাতী ক্ষতিও হতে পারে।
কাশি হলে শিশুকে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দিন, নাকে সাধারণ স্যালাইন ব্যবহার করুন। কুসুম গরম পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে নাক পরিষ্কার করলে আরাম পায়। অনেক সময় কাশি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার অংশ—তাই সব কাশি দমন করা প্রয়োজন নয়।
যদি কাশি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা শিশুর শ্বাসকষ্ট, জ্বর, বা দুর্বলতা দেখা দেয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এটি ব্রঙ্কিওলাইটিস, নিউমোনিয়া, টনসিলাইটিস, অ্যাজমা বা জন্মগত হৃদরোগের ইঙ্গিত হতে পারে।