google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: আগামী নির্বাচনে এককভাবেই মাঠে নামতে চায় এনসিপি, জোটে না যাওয়ার পক্ষে অধিকাংশ নেতা
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোট গঠন করবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা। তবে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের অধিকাংশ সদস্য এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয়ে পরিণত হওয়ার জন্য স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করা জরুরি।
সম্প্রতি রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নির্বাহী কাউন্সিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এই সভায় দলের নির্বাচনী পরিকল্পনা, সম্ভাব্য জোট–সমঝোতা এবং দলকে ঘিরে চলমান নানা প্রচারণা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন,
“আমরা ইতিমধ্যে একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছি। প্রার্থী নির্ধারণ ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অধিকাংশ সদস্যের মত, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে এনসিপিকে এককভাবে নির্বাচনে যেতে হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণায় অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া দল এনসিপি এই নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনের জন্য তারা নিয়েছে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক।
যদিও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে, বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের সঙ্গেই এনসিপির সম্ভাব্য জোট নিয়ে। তবে দলটির অনেক নেতা মনে করেন, এমন জোটে গেলে এনসিপির স্বাধীন রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গত বুধবার রাতে এনসিপির ৫১ সদস্যের নির্বাহী কাউন্সিল বৈঠকে ৩০ জনের বেশি সদস্য অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান,
“বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই এনসিপিকে সঙ্গে রাখতে চায়। কিন্তু কোনো দলের ছায়া নিয়ে স্বল্পমেয়াদে কিছু আসন জেতা সম্ভব হলেও, দীর্ঘমেয়াদে স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। তাছাড়া বিএনপির সমালোচনা করার পর তাদের সঙ্গে জোট করলে সেটির দায় নিতে হবে। অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে গেলে ঐতিহাসিক দায় এড়ানো যাবে না। তাই এককভাবে লড়াই করাই শ্রেয়।”
সভায় আরও আলোচিত হয় সম্ভাব্য তৃতীয় জোট গঠনের বিষয়টি—যেখানে গণতন্ত্র মঞ্চের ছয় দল, এবি পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদ অংশ নিতে পারে। এনসিপির শীর্ষ নেতারা জানান, কিছু দল এই উদ্যোগে আগ্রহী হলেও অনেকেই এখনও বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় আছে। তারা অবস্থান পরিবর্তন করলে বিকল্প একটি শক্তি হিসেবে তৃতীয় জোট দাঁড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এনসিপিকে নিয়ে প্রকাশিত কিছু সংবাদকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে দলটি। নির্বাহী কাউন্সিলের বৈঠকে এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয় এবং দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংক্ষেপে:
🔸 এনসিপির অধিকাংশ নেতা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে চান
🔸 বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে জোটে না যাওয়ার পক্ষে মত
🔸 ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে
🔸 তৃতীয় জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাও অব্যাহত