google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: খালেদা জিয়ার বিদায়: বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগের সমাপ্তি
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালে সিসিইউ ও আইসিইউতে কয়েক সপ্তাহ কাটানোর পর তিনি চলে গেলেন, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানের উপস্থিতির ঠিক পরে।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একমাত্র সরকারপ্রধান, যিনি সম্মান অক্ষুণ্ন রেখে ক্ষমতা ছাড়েন এবং স্বাভাবিকভাবে জীবন সমাপ্তি ঘটান। ক্ষমতায় থাকা ও বাইরে থাকা অবস্থাতেই তিনি সমানভাবে সম্মানিত ছিলেন।
একজন গৃহবধূ ও অনিচ্ছুক রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়া, বিভক্ত বিএনপিকে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের রূপ দিতে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। মৃদু হাসির আড়ালে কঠোর রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল।
বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে প্রোটোকল সংক্রান্ত মতবিরোধ সমাধানও তার শৃঙ্খলার উদাহরণ। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিশোধের প্রবণতা না রেখে তিনি রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রক্ষা করেছেন। বিএনপির ভাঙাচোরা অবস্থার পুনর্গঠন তাঁর দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। ১৯৯১ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে। অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জেল ও গৃহবন্দী রাখার পরও তিনি কখনো অভিযোগ করেননি, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছেন।
বেগম জিয়ার রাজনীতিতে বড় লিগ্যাসি হলো ভদ্রতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার ধৈর্য। ক্ষমতা গ্রহণ ও ত্যাগের ক্ষেত্রে তাঁর নীতি সবসময় গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান বজায় রেখেছে।
তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি তারেক রহমানকে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এনেছেন। যদিও তিনি তাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে পারলেন না, কিন্তু দলের নেতৃত্বের যথার্থ হস্তান্তর করেছেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, ধৈর্য ও নৈতিকতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি স্মরণীয় অধ্যায়ের প্রতীক হয়ে থাকবে।