google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: জুলাই সনদে এখনই সই নয়: আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হলে যোগ দেবে এনসিপি
জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলেও এর আইনি ভিত্তি ও বৈধতা নিশ্চিত করতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় থাকবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সনদের আইনি জটিলতা নিরসন ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া স্পষ্ট হলে দলটি এতে সই করবে বলে জানিয়েছে।
শনিবার এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়। এর এক দিন আগে, শুক্রবার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে ২৪টি রাজনৈতিক দল। তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তনের অগ্রভাগে থাকা তরুণদের সংগঠন এনসিপি সেখানে অংশ নেয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিষ্কার না করেই সরকার সনদ স্বাক্ষরের আয়োজন করেছে। সনদের কোনো আইনি ভিত্তি ঘোষণা করা হয়নি, বাস্তবায়ন আদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়নি—এসব কারণেই এনসিপি “শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য” সই থেকে বিরত থেকেছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এনসিপি “বাহাত্তরের ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্ত” বিলোপ করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে। তারা মনে করে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জাতিকে ধোঁয়াশায় রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ”–এর কোনো উল্লেখ না থাকায় এটি আইনগতভাবে দুর্বল। এনসিপির দাবি, অভ্যুত্থান-পরবর্তী যেকোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের নৈতিক ও আইনি ভিত্তি হতে হবে জনগণের সার্বভৌম ও গাঠনিক ক্ষমতা, কিন্তু জুলাই সনদে এই মৌলিক বিষয়টির কোনো উল্লেখ নেই।
দলটির মতে, রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটে সম্মত হলেও এর আইনি কাঠামো স্পষ্ট না থাকায় বাস্তবায়ন অনিশ্চিত। বিদ্যমান সংবিধানের ‘বেসিক স্ট্রাকচার’ পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকায় ভবিষ্যতে এটি আদালতে চ্যালেঞ্জড হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে এনসিপি মনে করে।
বিবৃতিতে বলা হয়,
“এই প্রক্রিয়ায় ‘জুলাই সনদ’ পাস হলে, এটি জনগণের সঙ্গে একটি সাংবিধানিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছু হবে না।”
দলটি দাবি করেছে, গণভোটের আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা, যাতে জুলাই অভ্যুত্থানের আইনি ও নৈতিক ভিত্তি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে।
এনসিপি আশা প্রকাশ করেছে, ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বলে সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে আসন্ন আলোচনায় অন্যান্য ফ্যাসিবাদবিরোধী দলও তাদের পাশে থাকবে। দলটির মতে, কোনো অবস্থাতেই জুলাই সনদকে “জেন্টেলম্যান’স অ্যাগ্রিমেন্ট”–এ পরিণত করা যাবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে ধারণ করে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আমরা আশা করি।”
এনসিপি সনদ স্বাক্ষরের আগে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারা সনদে কিছু সংশোধনী দাবি করেছিলেন, যার একটি পরে গৃহীতও হয়। কিন্তু এই বিষয়টি শুরুতেই আমলে না নেওয়ায় তাঁদের রাজপথে নামতে হয়।
দলটি অভিযোগ করেছে, শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের ফলেই জুলাই সনদ সম্ভব হয়েছে, অথচ তাঁদের ওপর হামলা ও অসম্মান করে সনদকে “পাওয়ার এলিটদের সেটেলমেন্ট” বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এছাড়া এনসিপি অভিযোগ করে, আমন্ত্রিত শহীদ পরিবারগুলোকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি—তাঁদের মঞ্চের এক কোণে বসানো হয় এবং প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। দলটি এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে।