google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: রুমার দুর্গম পাহাড়ে কেএনএ’র আস্তানায় সেনাবাহিনীর অভিযান পরিচালনা।
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-এর বিভিন্ন গোপন আস্তানায় মাসব্যাপী অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আজ বুধবার জানায়, ২৫ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে একটি প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ধ্বংস করা হয় এবং প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আইএসপিআর-এর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রেংতেলাং পাহাড়সহ দুর্গম এলাকায় অভিযান চালানো হয়। রেংতেলাং পাহাড়ে কেএনএ-এর পরিচয় দেওয়া বম পার্টির একটি প্রশিক্ষণ ঘাঁটি শনাক্ত করা হলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত কাঠের রাইফেল, স্নাইপার অস্ত্রের সিলিং, সামরিক পোশাক, বুটজুতা, কার্তুজের বেল্ট, ওয়াকিটকি চার্জার, সোলার প্যানেল, কম্বল, রসদসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ মাঠ, ফায়ারিং রেঞ্জ, পরিখা ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয় সেনাবাহিনী।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জনগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ২০২২ সালে আত্মপ্রকাশ করে। তাদের সশস্ত্র শাখা কেএনএ রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলার বম অধ্যুষিত পাহাড়ি এলাকায় এবং রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার রাইংক্ষ্যং বনাঞ্চলে সক্রিয় থাকে। একই সময়ে কেএনএফের বিরুদ্ধে উগ্রবাদী গোষ্ঠী জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্কীয়া সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে যৌথ অভিযান শুরু হয়।
২০২৪ সালের এপ্রিলের শুরুর দিকে কেএনএফ সদস্যরা রুমা ও থানচি উপজেলায় ব্যাংক ডাকাতি ও পুলিশের অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটায়। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে বর্তমানে কেএনএফ ও তাদের সশস্ত্র সদস্যদের কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে।