google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: রমজানের পূর্ণ বরকত লাভের জন্য রজব ও শাবানে আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি অপরিহার্য
পবিত্র রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। এই মাসে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি দয়া বর্ষণ করেন, গুনাহ মাফ করেন এবং জান্নাতের দ্বার খুলে দেন। কিন্তু এই বরকতের পূর্ণ সুফল পেতে হলে প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) রজব মাসের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে রমজানের জন্য দোয়া করতেন এবং শাবান মাসে সর্বাধিক নফল রোজা রাখতেন। এ থেকেই বোঝা যায়, রজব ও শাবান হলো রমজানের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির সুবর্ণ সুযোগ। আবু বকর বালখি (রহ.) এর উপমা অনুযায়ী, ‘রজব হলো বীজ বপনের মাস, শাবান সেচ দেওয়ার মাস এবং রমজান ফসল কাটার মাস।’
রাসুল (সা.) এর দোয়া, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রমাদান’ আমাদের শেখায় যে রমজানের প্রস্তুতি অনেক আগে থেকেই শুরু করা উচিত।
রমজানের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপসমূহ:
১. নিয়ত ও ইখলাসের সংশোধন: সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। রজব থেকে নিজের নিয়ত যাচাই করুন।
২. তওবা ও ইস্তিগফার: আন্তরিক তওবা ও ইস্তিগফারের অভ্যাস তৈরি করুন।
৩. আত্মশুদ্ধি ও নফস নিয়ন্ত্রণ: নফসুল আম্মারাকে প্রশিক্ষণ দিন।
৪. ধর্মীয় জ্ঞানার্জন: ফরজ ইবাদতের সঠিক নিয়ম শিখুন, কোরআন তিলাওয়াত ও তাজবিদের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৫. নামাজে খুশু-খুজু বৃদ্ধি: নামাজ শুদ্ধভাবে এবং সময়মতো আদায় করুন।
৬. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা: প্রতিদিন তিলাওয়াত, তাফসির পড়া ও মুখস্থের অভ্যাস করুন।
৭. গুনাহ থেকে দূরে থাকা: মিথ্যা, গীবত ও হিংসা পরিহার করুন।
৮. নফল রোজার অভ্যাস: শাবান মাসে নফল রোজা রাখুন।
৯. দোয়ার তালিকা তৈরি: গুরুত্বপূর্ণ দোয়া আগে থেকে লিখে রাখুন।
১০. পারিবারিক ও সময় ব্যবস্থাপনা: পরিবারের সঙ্গে প্রস্তুতি নিন, সুশৃঙ্খল রুটিন তৈরি করুন।
১১. শারীরিক প্রস্তুতি: সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি ও ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
১২. দৈনিক আত্মমূল্যায়ন: প্রতিদিন নিজের আমল পর্যালোচনা করুন এবং ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
রজব মাস ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং আগামী রমজান ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনই প্রস্তুতি শুরু করা প্রয়োজন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের পূর্ণ বরকত লাভের তাওফিক দিন এবং ইবাদত কবুল করুন। আমিন।