ফুটবল মাঠে এমন দৃশ্য বিরল—টাইব্রেকারে নিয়মিত গোলকিপারও শট আটকাতে পারছেন না। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান কিরণ নিজেই হাতে তুলে নেন গোলকিপারের গ্লাভস এবং দাঁড়ান পোস্টের নিচে। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।
আজ সাভারের বিরুলিয়া ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মাঠে অনুষ্ঠিত ইস্পাহানি-প্রথম আলো আন্তবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলের তৃতীয় আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চিটাগং ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি (সিআইইউ)।
নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম পাঁচ শটে দুই দলেরই গোল হয়েছে, স্কোর দাঁড়ায় ৫-৫। এরপর শুরু হয় সাডেন ডেথ। জাবির সপ্তম শটে অধিনায়ক কিরণ পোস্টের নিচে দাঁড়ালেও দলের জন্য জিততে পারেননি। চট্টগ্রামের দলটি ৭-৬ গোলে জয় নিশ্চিত করে এবং প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠে আসে।
ম্যাচে জাহাঙ্গীরনগরের ওয়াদুদ আহমেদ সিজান প্রথম গোল করেছিলেন, তবে চিটাগং ইনডিপেনডেন্টের মো. রুহুল্লা কর্নার থেকে গোল করে সমতা ফেরান। টাইব্রেকারে বিজয় নিশ্চিত করেন কাজী আসিফ মাহমুদ।
জাহাঙ্গীরনগরের অধিনায়ক কিরণ মূলত ডিফেন্ডার হলেও মাঠজুড়ে দলের খেলা তৈরি করেছেন। তিনি পেশাদার লিগে রহমতগঞ্জ এমএফএসের হয়ে খেলেন এবং টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন।
সেমিফাইনালে চিটাগং ইনডিপেনডেন্টের প্রতিপক্ষ হবে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বনাম গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দল। ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন ইনডিপেনডেন্টের ফরোয়ার্ড ওয়াহিদুর রহমান সাইদু।
টাইব্রেকারের নাটকীয়তায়, কিরণের সাহসী উদ্যোগ ও চিটাগং ইনডিপেনডেন্টের দৃঢ় মনোবলের কারণে এ ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন থাকবে।