বিপিএলে দারুণ পারফরম্যান্স করলে বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়া সম্ভব কি না—এই প্রশ্নে পরিষ্কার না–করে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন জাতীয় টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস। তবে তাঁর বিশ্বাস, আগামী ফেব্রুয়ারির বিশ্বকাপের জন্য দল সামগ্রিকভাবে প্রস্তুত।
এ বছর ৩০টি টি–টোয়েন্টি ম্যাচে রেকর্ড ১৫ জয়—পরীক্ষা–নিরীক্ষার মাঝেও বাংলাদেশ দল নজরকাড়া উন্নতি করেছে। বিপিএলের পর আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই বলে বিশ্বকাপের আগে এটি ছিল দলটির শেষ প্রস্তুতি।
ছক্কার ঝড়: ব্যাটিংয়ে বড় উন্নতি
এ বছর বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় উন্নতি হয়েছে ছক্কা মারার সক্ষমতায়। ২০২৩ সালে যেখানে ছিল ১২২ ছক্কা, সেখানে ২০২৫ সালে এসেছে রেকর্ড ২০৬ ছক্কা। ছক্কার প্রাচুর্য প্রভাব ফেলেছে রান তোলার গতিতেও—এ বছর ১২৫.৯৭ স্ট্রাইক রেট, পাঁচ বা তার বেশি ম্যাচ খেলা কোনো বছরে যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ।
তানজিদের আগুনঝরা বছর
২০২৪ সালে জাকের আলীর ২১ ছক্কার রেকর্ড ভেঙে এ বছর তানজিদ হাসান একাই মেরেছেন ৪১ ছক্কা—বাংলাদেশের পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ। ওপেনিংয়ে ধারাবাহিকতা, ২৭ ইনিংসে ৭৭৫ রান এবং ১৩৫–এর বেশি স্ট্রাইক রেট তাঁকে দলের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত করেছে।
লিটন দাস (২৩), সাইফ হাসান (২৯), পারভেজ হোসেন (৩৪)—সবাইই জাকেরকে পেছনে ফেলেছেন।
মিডল অর্ডারের দুশ্চিন্তা
টপ অর্ডার যেখানে স্থির, সেখানে মিডল অর্ডার পুরো বছরটাই ছিল পরীক্ষার ঘরে।
জাকের আলী, শামীম হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান—ঘুরে ঘুরে সবাইকে পরীক্ষা করা হয়েছে। মাঝেমধ্যে উজ্জ্বলতা থাকলেও কেউই পুরোপুরি আস্থা দিতে পারেননি।
প্রায় সারা বছর টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। বিশ্বকাপের আগে এ জায়গাটিই সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা।
বোলিং—বাংলাদেশের প্রথাগত ভরসা
স্পিন বিভাগে রিশাদ হোসেন ছিলেন সেরা আবিষ্কার—২৫ ম্যাচে ৩৩ উইকেট।
নাসুম আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজও ধারাবাহিক ছিলেন, যদিও ঘুরিয়ে–ফিরিয়ে খেলানো হয়েছে সবাইকে।
পেস আক্রমণে মোস্তাফিজুর রহমান এখনো দলের মূল ভরসা—এ বছর ৬.০৯ ইকোনমিতে ২৬ উইকেট।
তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও তানজিম হাসানের পারফরম্যান্সে টিম ম্যানেজমেন্ট সন্তুষ্ট।
বিশ্বকাপের আগে চ্যালেঞ্জ
ব্যাটিংয়ের টপ অর্ডার ও বোলিং বিভাগে স্থিতি থাকলেও মিডল অর্ডারে যথার্থ সমাধান এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিপিএলে কেউ উজ্জ্বল করলে জায়গা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও, দলের কোর স্ট্রাকচার এখনই প্রায় গঠিত—এমনটাই ইঙ্গিত অধিনায়কের।
বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—বছরজুড়ে পাওয়া সাফল্য বিশ্বকাপের মঞ্চে ধরে রাখা।