google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: বিশ্ব ক্রিকেটে পরিবর্তনের হাওয়া: আইসিসির সভায় গৃহীত ৭ বড় সিদ্ধান্ত
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ত্রৈমাসিক সভায় নেওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, যা বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে। নারী ক্রিকেটে নতুন অধ্যায়, অলিম্পিকে নতুন পরিকল্পনা, সহযোগী সদস্যদের তহবিল বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে এবারের বৈঠককে বলা হচ্ছে আইসিসির কৌশলগত মাইলফলক।
২০২৯ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশ নেবে ১০টি দল—এমন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ৮ দল খেললেও, নারী ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও দর্শকচাহিদা বিবেচনায় এই সম্প্রসারণের ঘোষণা এসেছে।
ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপে প্রায় ৩ লাখ দর্শক স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন, অনলাইনে দেখেছেন প্রায় ৫০ কোটি দর্শক, যা নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
আইসিসি জানিয়েছে, সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে দেওয়া রাজস্ব তহবিল ১০% বাড়ানো হবে। এই তহবিলের মাধ্যমে দেশগুলো স্থানীয় ক্রিকেট অবকাঠামো, এইচপি প্রোগ্রাম ও তরুণ ক্রিকেটার উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ করতে পারবে।
বারবার নিয়ম ভঙ্গ, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জাতীয় স্বীকৃতি না পাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য পদ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে আইসিসি।
তবে দেশটির ক্রিকেটারদের খেলা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আইসিসি জানিয়েছে, ‘প্রজেক্ট ইউএসএ’ নামের বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের জন্য মার্কিন ক্রিকেটকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো শক্তিশালী দল গঠন ও পারফরম্যান্স উন্নয়ন।
আগেই জানা গিয়েছিল, লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগে ৬টি করে দল খেলবে। এবার আইসিসি জানিয়েছে, আসরে মোট ২৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথমবারের মতো আফ্রিকান গেমস (২০২৭, কায়রো) এবং প্যান আমেরিকান গেমস (২০২৭, লিমা)-এ ক্রিকেট যুক্ত হচ্ছে। ২০১০ সালে এশিয়ান গেমসে যুক্ত হওয়ার পর এবার আফ্রিকা ও আমেরিকাতেও ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক অভিষেক হতে যাচ্ছে।
ক্রিকেটভিত্তিক ভিডিও গেম তৈরির স্বত্বের জন্য দরপত্র আহ্বানের অনুমোদন দিয়েছে আইসিসি। এতে বৈশ্বিক গেমিং কোম্পানিগুলো অংশ নিতে পারবে।
একইসঙ্গে নারী ক্রিকেট কমিটিতে নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন সাবেক ভারত অধিনায়ক মিতালি রাজ, ইংল্যান্ড নারী দলের কোচ শার্লট এডওয়ার্ডস, এবং নিউজিল্যান্ড কোচ বেন সোইয়ারসহ আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
এবারের আইসিসি সভা শুধু নিয়মিত প্রশাসনিক বৈঠক নয়—এটি ছিল ভবিষ্যৎ ক্রিকেটের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের কৌশলগত পর্ব। নারী ক্রিকেটের প্রসার, ডিজিটাল উদ্যোগ, ও বৈশ্বিক অন্তর্ভুক্তি—সব মিলিয়ে ক্রিকেট এখন আরও বেশি বৈশ্বিক, আধুনিক ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে।