বিশ্ব ফুটবল তথা ইতিহাসের এক অদ্বিতীয় প্রতিভা ডিয়েগো ম্যারাডোনা, যে ‘বন্ধু’ পেলের সঙ্গে স্বর্গে ফুটবল খেলতে চেয়েছিলেন, তাঁর জীবন ও কীর্তি আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে অম্লান। ম্যারাডোনার জাদুকরি বাঁ পা, যা প্রতিটি ম্যাচকে নাটকীয় করে তুলেছে, ফুটবল ইতিহাসে অনন্য।
ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার পরও ম্যারাডোনা নানা কাণ্ড ও কর্মকাণ্ডে খবরের শিরোনামে ছিলেন। বিশ্বকাপে তাঁর পারফরম্যান্স, বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বিশ্ব ফুটবলের এক চিরস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে।
ম্যাড্রোনার কৃতিত্ব কেবল মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। নেপোলিতে ক্লাবকে লিগ জেতানো ও ইউরোপীয় শিরোপা অর্জন, স্থানীয় সমাজ ও মাফিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক, এবং রাজনৈতিক সচেতনতা—সবই তাঁর ব্যক্তিত্বের অংশ। বিপ্লবী চে গুয়েভারার উল্কি, কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর বন্ধুত্ব, সমাজ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ—এসব মিলে ম্যারাডোনা ফুটবলের বাইরে জীবনকেও এক নাটকীয় অধ্যায়ে রূপান্তরিত করেছেন।
ম্যারাডোনার অবদান কেবল খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; জীবন, প্রেম, প্রতিরোধ, এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে তিনি আজও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর। তাঁর জীবন প্রমাণ করে, ম্যারাডোনা একবার পৃথিবী পেয়েছে, আর তাঁর মতো আর কেউ পায়নি।