google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ঢাকা | , ১২ মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

৪৬ মাসে কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশের ফুটবলের উত্থান-পতন সংবাদ

Jashore Now
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 13, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: ৪৬-মাসে-কাবরেরার-অধীনে-বাংলাদেশের-ফুটবলের-উত্থান-পতন-সংবাদ ছবির ক্যাপশন: ৪৬-মাসে-কাবরেরার-অধীনে-বাংলাদেশের-ফুটবলের-উত্থান-পতন-সংবাদ
ad728

২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্বে আছেন হাভিয়ের কাবরেরা। বর্তমানে তিনি তৃতীয় দফায় কোচ হিসেবে কাজ করছেন, যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ৩১ মার্চ। তবে সম্প্রতি হংকংয়ের বিপক্ষে ঢাকায় ৪–৩ গোলের পরাজয়ের পর তাঁর একাদশ নির্বাচন ও কৌশল নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তাঁর ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে হংকংয়ের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচের ফলাফলের ওপর।

এই ৪৬ মাসে কাবরেরার অধীনে বাংলাদেশ জাতীয় দল খেলেছে ৩৪টি ম্যাচ। জয়ের হার ২৬.৪৭ শতাংশ। কাবরেরা জয় পেয়েছেন ৯ ম্যাচে, ড্র ৮টি, হার ১৭টি। এর আগে জেমি ডে’র অধীনে বাংলাদেশ ২৯ ম্যাচে ৯ জয়, ৫ ড্র ও ১৫ হার পেয়েছিল—দুই কোচের ফলাফল প্রায় একই।

তবে কাবরেরার সময় বাংলাদেশ কোনো ট্রফি জিততে পারেনি। ৯ জয়ের মধ্যে তিনটি এসেছে মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষে, দুটি কম্বোডিয়ার বিপক্ষে, এবং একটি অপেশাদার দল সেশেলসের বিপক্ষে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মাত্র দুটি জয় ও বিশ্বকাপ বাছাইয়ে একটি জয় এসেছে তাঁর সময়ে।

কাবরেরার সময় বাংলাদেশ কিছু বিব্রতকর হারও দেখেছে। ২০১৬ সালের পর আবার ভুটানের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ, নেপালের কাছে ৩–১ গোলের বড় হারও এসেছে এই সময়ে। এমনকি সেশেলসের কাছেও হারের অভিজ্ঞতা আছে দলের।

এশিয়ান কাপ ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও সাফল্য মেলেনি। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তিন ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ছয় ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে ড্র করেছে, বাকিগুলোতে হেরেছে।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়েও তেমন উন্নতি হয়নি। ২০২২ সালে র‍্যাঙ্কিং ছিল ১৮৬, এখন ১৮৪। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ২০২৩ সালে ১৪ বছর পর সেমিফাইনালে উঠা কাবরেরার সবচেয়ে বড় অর্জন।

সাবেক অধিনায়ক আশরাফউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, কাবরেরার অধীনে দলের খেলার মান কিছুটা উন্নত হয়েছে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস, দৌড় ও আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তবে তিনি মনে করেন, “কোচ ঢাকায় থাকেন না, তাই পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালন হয় না।”

অন্যদিকে সাবেক স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান বলেন, “চার বছরে কোনো বড় অর্জন নেই। এত দিন তাঁকে রাখার কারণ খুঁজে বের করা উচিত।” সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলামও বলেন, “তাঁর সময়ে দেশের ফুটবল কোনো সাফল্য পায়নি।”

যদিও ফলাফলে বড় পরিবর্তন না এলেও কাবরেরার খেলার ধাঁচে দর্শক মাঠে ফিরেছে। হামজা চৌধুরীর আগমন, শমিত সোম ও ফাহামিদুলদের মতো তরুণদের যোগদান দলকে শক্তিশালী করেছে। সাবেক গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম মনে করেন, “হামজাকে দলে আনা বাফুফের বড় অর্জন। তিনি দলের মনোবল বাড়িয়েছেন।”

সব মিলিয়ে, কাবরেরার চার বছরের অধ্যায়ে বাংলাদেশের ফুটবল ফলাফলে বড় সাফল্য না পেলেও খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতায় কিছু উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছে। এখন দেখা যাক, হংকংয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ভাগ্য কোন দিকে যায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jashore Now

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ