google-site-verification=EcdkQf27QgQiUVrz2fa6ZQxgrlewb0syaCf_Ho2k3TU
ছবির ক্যাপশন: ড্যাপ সংশোধনে রাজধানীতে ভবনের উচ্চতা ও আয়তন বাড়ছে
রাজধানী ঢাকায় ভবনের উচ্চতা ও আয়তন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে ড্যাপ রিভিউ–সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি। নতুন সংশোধিত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) অনুযায়ী, এখন মগবাজারে ২০ ফুট প্রশস্ত সড়কের পাশে ৫ কাঠা জমিতে ১১ হাজার ৫২০ বর্গফুট পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা যাবে — যা বর্তমানে ৭ হাজার ৯২০ বর্গফুট পর্যন্ত সীমিত। এর ফলে একটি ভবনে ফ্ল্যাটের সংখ্যা ৯–১০ থেকে বেড়ে হবে ১১টি পর্যন্ত।
ড্যাপের এই সংশোধনে রাজধানীকে আগের ২৭৫টি ঘনত্ব ব্লকের পরিবর্তে ৬৮টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। ২০ ফুট বা তার বেশি প্রশস্ত সড়কের পাশে ভবনের ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) বাড়ানো হয়েছে, তবে ২০ ফুটের কম সড়কের পাশে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
রিহ্যাব সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন,
“আগের ড্যাপে ভবনের আয়তন ও ফ্ল্যাটের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছিল, ফলে আবাসন খাতে স্থবিরতা নেমে এসেছিল। এখন সংশোধন হওয়ায় এই স্থবিরতা কাটবে এবং বাজারে গতি আসবে।”
একই সঙ্গে অনুমোদিত হয়েছে ‘ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা–২০২৫’।
৫ কাঠার বেশি জমিতে ভবন করলে বর্জ্য পরিশোধনাগার (STP) বাধ্যতামূলক।
ভবন নকশার ফি এখন অনুমোদনের পর দিতে হবে, আগে দিতে হতো আগে।
অকুপেন্সি সনদ এখন সারা জীবনের জন্য প্রযোজ্য হবে, যদি নকশায় পরিবর্তন না হয়।
বড় প্রকল্পের অনুমোদনে একটি কমিটি যথেষ্ট (আগে ছিল দুটি)।
রাজউকের পরিকল্পনাবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
“ড্যাপ সংশোধন এমনভাবে করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হয়। কৃষিজমিতে হাসপাতাল বা স্কুল করার আগের সুযোগটি এবার বাদ দেওয়া হয়েছে।”
নতুন ড্যাপে বিভিন্ন এলাকার FAR (ফ্লোর এরিয়া রেশিও) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মগবাজারে: ২.৭৫ → ৩.২৫
মিরপুরে: ২.৮ → ৩.৪
মহাখালীতে: ২.২ → ৩.৩
পুরান ঢাকায়: ২.৬ → ৩.৩
খিলক্ষেত: ২ → ৪.৪
মোহাম্মদপুরে: ২.৭ → ৩.৪
এতে করে ২০ ফুট প্রশস্ত সড়কের পাশে ৫ কাঠা জমিতে এখন ১১,৭০০ বর্গফুট পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা যাবে, যা আগে ছিল ৯,৭২০ বর্গফুট।
পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, দ্বিতীয় দফা ড্যাপ সংশোধনে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ কিছুটা প্রাধান্য পেয়েছে। তবে সরকারের ব্যাখ্যা — এটি মূলত “বাসযোগ্য ঢাকা” গড়তে সাধারণ মানুষের স্বার্থেই করা হয়েছে।